Published : 20 Apr 2016, 07:38 PM
বুধবার সকালে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে ইকরচালি বাজারের অদূরে ১৩ মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ২১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনকবলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তারাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারাগঞ্জের ১৩ মাইল এলাকায় ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুরগামী তৃপ্তি পরিবহনের একটি বাস ও কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী সায়মন পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
“ঘটনাস্থলেই দুই নারীসহ নয় জনের মৃত্যু হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায় আরও তিন জন।”
নিহতদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন- সায়মন পরিবহনের চালকের সহকারী আকুল মিয়া (২৬), তৃপ্তি পরিবহনের সহকারী চন্দন রায় (২৫), নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পাশারীপাড়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে কৃষি শ্রমিক মোহাম্মদ আলী কালা মিয়া (৪৫), সাবেদ আলীর ছেলে কৃষি শ্রমিক আব্দুল মতিন (৪০), কৃষি শ্রমিক বাবু মিয়া (২৭), লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্যগুড্ডিমারী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক একাব্বর আলী (৬৫), নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার লিটন মিয়া (২২), ডোমারের মিজানুর রহমান (৪০) এবং তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচারী ফারুকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জিন্নাত রেহেনা (৩৫)।রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আ স ম বরকতুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে ৫৪ জনকে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জন মারা গেছেন। বাকি ৫১ জনের মধ্যে ২১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে নিওরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত মোহাম্মদ আলী কালা মিয়ার স্ত্রী ফেন্সি বেগম স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছুটে আসেন।
আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, তার স্বামীসহ এলাকার ১০-১২ জন শ্রমিক ধান কাটার কাজ করার জন্য বগুড়ায় যাচ্ছিলেন। প্রতি বছর বোরো মওসুমে তারা বগুড়ায় যান।
রংপুরের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, লাশ বাড়িতে নেওয়ার জন্য তাদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা, তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ হাজার করে টাকা, আহতদের প্রত্যেককে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ হাজার এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার করে টাকা করে দেওয়া হয়েছে।রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১১ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যজনের স্বজন না আসায় তাদের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম মোস্তফা ফারুক, জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল্লাহ হেল বাকি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।