২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

কারাগারে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

হামলায় আহত মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা পাঁচদিন পর জেলা কারাগারে মারা গেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Apr 2016, 11:27 PM

Updated : 20 Aug 2022, 12:27 PM

রোববার কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসিফ হাসানের (২১) মৃত্যু হয়। আসিফ সিরাজদিখানের কোলা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

আসিফের স্বজন ও দলের নেতাকর্মীর অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে গত মঙ্গলবার আসিফকে আহত করে।

তার মৃত্যুর পেছনে পুলিশের অবহেলাকেও দায়ী করেন তারা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোলা ইউপির বিজয়ী চেয়ারম্যান মীর লিয়াকত আলী বলেন, ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর লোকজন গত মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাতে আসিফকে প্রচণ্ড মারধর করে। অথচ ‘রহস্যজনক কারণে’ পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে।

“মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত আসিফ বমি করা সত্ত্বেও ‘নামমাত্র চিকিৎসা’ দিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।

“মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দিলেও পুলিশ পরামর্শপত্রটি জেলাখানা বা মামলার নথিতে যুক্ত করেনি।”

সিরাজদিখান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈকত মাহমুদ বলেন, এলাকার ‘মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত’ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইয়ামিন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে রড দিয়ে নির্মমভাবে পেটায় আসিফকে।

“গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকার পক্ষে অবস্থান নেন আসিফ। আর ইয়ামিন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নাসির চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন।”

সৈকত সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আসিফ। পথে ইয়ামিনের বাড়ি অতিক্রম করার সময় তার উপর হামলা চালানো হয়।

“কিন্তু ইয়ামিনের মা ছেলেকে আঘাত করার অভিযোগ তুলে মামলা করেন আসিফের বিরুদ্ধে।”

সৈকত বলেন, রাতেই ইছাপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ আসিফকে থানা হাজতে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (১৩ এপ্রিল) সকালে আবার ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।  

সিরাজদিখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, সিটি স্ক্যান করার প্রয়োজন হতে পারে মর্মে মতামত দিয়ে আসিফকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

তবে আসিফের সিটি স্ক্যান করা হয়নি বলে স্বীকার করেন ওসি।

ওসি আরও বলেন, আসিফের বিরুদ্ধে ৭/৮ জনকে নিয়ে ইয়ামিনের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ছিল।

“হামলার সময় আসিফের মাথার পেছনে কোপ লাগে এবং তার দুইটি দাঁত পড়ে যায় বলে তার বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়।”

পরে লোকজন আফিসকে আটক করে পিটুনি দেয় বলে ওসি দাবি করেন।

আসিফের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, আসিফ কাউকে আঘাত করেনি। ইয়ামিনের যদি কিছু হয় সেটি আসিফকে মারতে গিয়েই হয়েছে। পরে নাটক সাজানো হয়।

এক ভাই এক বোনের মধ্যে আফিস ছোট।

মুন্সীগঞ্জ জেল সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ বা ঢাকায় রেফার্ডের কোনো কাগজ জেলখানা পায়নি। বরং চিকিৎসকের যে পরামর্শপত্র সঙ্গে দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল।

আসিফের লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনালের হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।