২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চার শিশু খুন: নয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

হবিগঞ্জের সুন্দ্রাটিকি গ্রামে চার শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগলসহ নয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Apr 2016, 07:30 PM

Updated : 12 Apr 2022, 01:47 AM

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোক্তাদির হোসেন রিপন মঙ্গলবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।   

দুপুরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

চার শিশুর লাশ উদ্ধারের ৪৯ দিন পর এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হলো।

আসামিরা হলেন আব্দুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া, আরজু মিয়া, শাহেদ, উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া, বিল্লাল ও বাচ্চু মিয়া।

এদর মধ্যে প্রথম পাঁচজন কারাগারে রয়েছেন। উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক।

এছাড়া বাচ্চু মিয়া র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আটক সালেহ উদ্দিন ও বশির মিয়াকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৩০ ধারা এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) এবং আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।

মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে এবং তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র।

পাঁচ দিন পর ইছাবিল থেকে তাদের বালিচাপা লাশ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।

সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েত আবদাল মিয়া তালুকদার ও আব্দুল আলী বাগালের পরিবারের বিরোধের জেরে  এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে।

লাশ উদ্ধারের দিন রাতেই পুলিশ আব্দুল আলীসহ দুই ছেলেকে আটক করে। পরদিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতে (রিমান্ডে) নেয় পুলিশ।

রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ২২ ফেব্রুয়ারি রুবেল ও জুয়েল বিচারিক হাকিম খন্দকার কৌশিক আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এরপর আরজু মিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউছার আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

মামলার অন্যতম আসামি সালেহ আহমেদকে ২৪ ফেব্রয়ারি রাতে সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে আটক করে র‌্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে আরেক আসামি সিএনজি চালক বাচ্চু মিয়া চুনারুঘাটে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

২৯ ফেব্রুয়ারি আসামি শাহেদকে পুলিশ তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় শাহেদ ২ মার্চ হত্যাকাণ্ডে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

এরপর পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত করে ৬ মার্চ প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পেয়ে বাহুবল থানার এসআই জিয়াউদ্দিনকে বরখাস্ত ও পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

পুরানো খবর:

‘আলীর লেবু বাগানে হত্যা করা হয়’ ৪ শিশুকে

পুরানো খবর:

পঞ্চায়েতের বিরোধেই চার শিশু হত্যা: পুলিশ

পুরানো খবর:

৪ শিশু হত্যার সন্দেহভাজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত