অবশেষে বড়াল নদী থেকে সরছে ক্রসবাঁধ
আট বছর ধরে আন্দোলনের পর পাবনার চাটমোহরে বড়াল নদীর প্রাণ ফেরার আশা জেগেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে চাটমোহরের নুরনগর ঘাটের পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণে ক্রসবাঁধ অপসারণের কাজ উদ্বোধন করেন পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।
রেজাউল করিম বলেন, ‘বহু ঘাত-প্রতিঘাত, নিয়ম-কানুন, আইন মেনে বড়াল নদী চালুর কাজ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। তারই আলোকে আজ আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্রসড্যাম তুলে নেওয়ার কাজের উদ্বোধন করলাম।
বোঁথড় ঘাটের ক্রসবাঁধটিও অপসারণ করে সেতু নির্মাণের জন্য মত দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনির বলেন, ‘আমি এলজিইডির সাথে কথা বলেছি, তারাও সেটির কাজ শিগগির শুরু করবে।
‘আমি আশা করবো, পর্যায়ক্রমে সমস্ত বাঁধগুলো উঠে যাবে। নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে এই এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে।’
রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত বড়াল নদীর দৈর্ঘ্য ২২০ কিলোমিটার। ৮টি উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এই নদীর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চলনবিল অঞ্চলের ৩০ লাখ মানুষের জীবন জড়িত।
এ নদীর উপর অপরিকল্পিতভাবে ৩টি স্লুইসগেট, ৪টি বাঁধ দিয়ে এবং পাড় দখল করার কারণে স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এজন্য বড়াল নদী রক্ষায় ২০০৮ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছে নদীপাড়ের মানুষ।
আন্দোলনের মুখে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর সব বাঁধ অপসারণ করে নদী সচল করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স। এরপর সব আইনী জটিলতা কাটিয়ে বড়াল নদী চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার।
বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাঁধ অপসারণ হলে নদী পাড়ের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। রাজশাহীর চারঘাট থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটারের বড়াল নদী চালু হবে এটাই আমাদের আশা।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা বাঁধ ও স্লুইস গেট অপসারণের পর বড়াল নদীর পূর্ব অবস্থায় ফিরলে গতি পাবে চলনবিল অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন। এ অঞ্চলের জীব বৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা পাবে।
