১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আলমের সুদ কখনও শোধ হয় না’

মাগুরার শালিখা উপজেলার এক সুদের কারবারির প্রতারণার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

মাগুরা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Mar 2016, 07:59 PM

Updated : 11 Oct 2022, 07:51 PM

মধুখালী গ্রামের সুদের কারবারি আলম মোল্লার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার পুলুম বাজারে এই কর্মসূচি পালন করে তারা।

স্থানীয় আক্তার হোসেন ও মোসলেমসহ একাধিক ব্যক্তি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আলম মাসে ৪০ শতাংশ সুদে টাকা দিলেও তার সুদ কখনও শোধ হয় না।

“দাবিকৃত টাকা শোধ করতে না পারলে দেনাদারের উপর চলে আলমের ক্যাডারদের অত্যাচার। তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা শোধ করতে না পেরে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

জহুরুল হক নামে এক ব্যক্তি জানান, জরুরি পরিবারিক প্রয়োজনে তিনি আলমের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নেন।

“ছয় মাসের মধ্যে ২ লাখ টাকা দেওয়ার পরও ২০ হাজার টাকা দাবি করছে। মাস্তান দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।”

দেনার দায়ে তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান।

কাটিগ্রামের পিয়ারী খাতুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আলমের কাছ থেকে তিনি আড়াই হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

দুই মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তারপরও কয়েক দিন আগে আলম ও তার লোকজন তাকে ধরে নিয়ে মারধর করে এবং আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করে বলে পিয়ারীর অভিযোগ।

মধুখালী গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী মালেকা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী আলমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন।

“এখনও প্রতি সপ্তাহে টাকা না দিলে আলম ও তার লোকজন অশ্লীল ভাষায় গালাগালসহ মারধর করে। আলমের ভয়ে আমার স্বামী শুকুর আলী গত এক মাস ধরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।”

কাটিগ্রামের বাসিন্দা গ্রামীণ কবিরাজ শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য আলমের কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম।

“পরে জমিজমা বিক্রি করে আলমকে দুই বছরে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আরও টাকার জন্য আলম তার লোকজন দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।”

অভিযুক্ত আলম মোল্লা সুদ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বরং সাধারণ মানুষকে বিপদের সময় সাহায্য করি।

“কিন্তু কিছু ছোটলোক আছে যারা বিপদের সময় সাহায্য নেয় আর শোধ করতে না পেরে বদনাম করে।”

এ সময় তিনি এসব লেখালেখি করে কিছু হবে না বলে দম্ভোক্তি করে বলেন, “বড় বড় সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আমার আত্মীয়তা আছে।”

এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিরীহ মানুষের উপর যেকোনো ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।