৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

শরীয়তপুরের চরাঞ্চল: সরকারি সুবিধায় যারা বঞ্চিত

পদ্মা ও মেঘনা নদী বেষ্টিত শরীয়তপুরের চরাঞ্চলের কয়েকলাখ মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

কে এম রায়হান কবীর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jan 2016, 02:41 PM

Updated : 12 Apr 2022, 01:13 AM

এসব এলাকার মানুষেরা চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা, ই পি আই কার্যক্রম, কৃষি সেবা থেকে বঞ্চিত। কোনো কোনো এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নেই।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, পালেরচর, নড়িয়ার চর আত্রা, নওয়াপাড়া, ঘড়িষারের একাংশ, ভেদরগঞ্জের উত্তর তারাবুনিয়া, দক্ষিণ তারাবুনিয়া, কাঁচিকাটা, চরভাগা, গোসাইরহাটের মাঝেরচর, চরজানপুর, উত্তর জানপুর, চরজালালপুর, কুচাইপট্টি পিছিয়ে পড়া চরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

জেলা প্রশাসন জানায়, জেলায় ছোট বড় ২০টির মতো চর রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাস, যা জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ।

গোসাইরহাট উপজেলার মাঝের চর গ্রামের হাতেম আলী মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মূল ভূখণ্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ চরগুলোতে চলাচলের একমাত্র বাহন হচ্ছে ট্রলার বা নৌকা। চর থেকে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।

এসব এলাকায় কোনো গুরুতর অসুস্থ লোককে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যায়।

শিশুদের যে ছয়টি টিকা দেওয়া হয় এসব চরের শিশুরা সেগুলো পায় না বলে জানান হাতেম আলী।

এসব এলাকায় সম্প্রসারিত টিকাদান প্রকল্পের (ইপিআই) কোনো কার্যক্রম নেই।

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম না থাকায় এসব এলাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোসাইরহাট উপজেলার মাঝের চরে প্রায় ৪শ পরিবার রয়েছে, যেখানে সাতশ থেকে আটশ শিশুর জন্য কোনো বিদ্যালয় নেই।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় বিত্তশালীদের সহায়তায় ২০১৩ সালে চরজানপুর আবুল হাসেম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হয়েছে। এছাড়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তিনটি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯০ জন শিশুকে পাঠদান করছে ১ম থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত।

চর জালালপুর গ্রামের নোয়াব আলী ছৈয়াল বলেন, “আমরা চরের মানুষ। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকি। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা আমরা পাই না।”

চরজানপুর গ্রামের সেলিম আকন বলেন, “আমাদের চর এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় প্রায় ৮শ শিশু স্কুলে যায় না।”

গোসাইরহাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চরজানপুরে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ছিল না। ২০১৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। তাতে সব শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

“সেখানে আরও বিদ্যালয় প্রয়োজন। আমরা উদ্যোক্তা খুঁজছি, মোডিভেশন দিচ্ছি। উদ্যোক্তা পাওয়া গেলে নুতন স্কুল গড়ে তুলব।”

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস বলেন, ইতোমধ্যে চরজানপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। উদ্যোক্তা পাওয়া গেলে আরও স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যান্য সুযোগ সুবিধার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

“আশা করি ধীরে ধীরে চরাঞ্চলেরর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ আর পিছিয়ে থাকবে না।”