Published : 28 Dec 2015, 09:07 AM
দূর থেকে মনে হতে পারে, তারা হয়ত ইউনিয়ন পরিষদের রিলিফ নিতে এসেছেন। তবে কথা বলতেই জানা গেল- তারা ‘ক্যানভাসার’।
পালপাড়ার হরিদাসী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি হেলাল কোবরেজের ক্যানভাসে আইছি। দৈনিক ১০০ টাকায় ক্যানভাস করি।”
হরিদাসীর মতো আরও শতাধিক নারী কাজ করছেন নির্বাচনের প্রচারে। তারাই বগুড়ার কাহালু পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হেলাল কবিরাজের নির্বাচনী প্রচারে হাজির হয়েছেন সাত-সকালে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দিকনির্দেশনা নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন পাঁচ-দশ জনের দলে ভাগ হয়ে।
তারপর কী করবেন?
“পথেঘাটে ঘুরে ঘুরে যার সাথে কথা বলার সুযোগ হবে তার কুশল জিজ্ঞেস করে ভোট চাইব,” বলেন জামতলার কুলসুম।
মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে গৃহিণীদের কাছেও তারা ভোট চান। তফশিল ঘোষণার পর থেকেই ভোট চাওয়ার কাজটি করে যাচ্ছেন বলে জানান।রেললাইন ধরে হেঁটে আসছিলেন ৫০-৬০ জন নারী। তারা বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নানের জন্য প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানালেন।
তারাও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০০ টাকায় জনসংযোগ ও প্রচারের কাজটি করে দিচ্ছেন।
শুধু কাহালু পৌরসভা না, বগুড়ার সব পৌরসভাতেই এবারের ভোটে দেখা যাচ্ছে এ চিত্র।
ধুনট পৌরসভার সরকার পাড়ার সাধনা সরকার বলেন, “কাজ করি, টাকা পাই। ক্যানভাস করে টাকা নিচ্ছি। এতে দোষের কী আছে?”
বগুড়া পৌরসভার ফেলানী পট্টির জুলেখা বলেন, “কেউ কোনো কাজে ডাকে না। তাই ইলেকশন আইলে ক্যানভাস করি। ভোটের আগে সবাই ডাকে, ভোটের পরে কেউ খোঁজ রাখে না।”
তবে ভোট কাকে দেবেন তা কেউ বলতে চান না।
জুলেখা বলেন, “ভোট কাকে দেব সেটা আমার মনের ব্যাপার।”