৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

স্কুল ভবন নদীতে, চলছে ক্লাস গাছ তলায়

শরীয়তপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পদ্মার ভাঙনে বিলীন হওয়ায় গাছের নিচে চলছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান।

কে এম রায়হান কবীর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Nov 2015, 12:02 PM

Updated : 12 Oct 2022, 04:28 PM

উপজেলার ৪১ নম্বর ছুরিরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো ভবন না থাকায় ঈদগাহ ময়দানে চট বিছিয়ে চলছে ক্লাস।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লোকমান হোসেন জানান, ১৯৪০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর তিনবার পদ্মা নদীর ভাঙনে পড়েছে। সর্বশেষ গত ৩১ অগাস্ট দ্বিতল ভবনসহ বিদ্যালয়ের পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ায় গাছতলায় ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। এই প্রক্রিয়ায় ৫২৩ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা কষ্টকর।শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ইতোমধ্যে কমে গেছে।

“খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে যেমন কষ্ট হয় তেমনি শিক্ষার্থীরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছি। এখনও পাইনি।”

তবে স্কুলের নামে স্থানীয় মাহতাব উদ্দিন সরকার ৩৩ শতাংশ জমি দিয়েছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ছুরিরচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভবনসহ স্কুল এলাকা সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ায় সেখান থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে ঢালীকান্দি ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয়েছে স্কুলটি।

সেখানে বালুর মাঠে টিন দিয়ে একটি ছাপড়া তৈরি করে ৫০-৬০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্য শিক্ষার্থীরা রেইনট্রি গাছের নিচে চট বিছিয়ে বসে ক্লাস করছে। কাছেই বালুর মাঠ থাকায় বাতাস হলেই বালু উড়ে এসে শিক্ষার্থীরা মাখিয়ে দেয়।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছাদিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলে, ক্লাস করার সময় বাতাসে চোখে-মুখে ধুলো-ময়লা ঢোকে।

চর্তুথ শ্রেণির ছাত্রী জাকিয়া বলে, গাছের নিচে বসে ক্লাস করায় উপর বসে থাকা কাকসহ অন্যান্য পাখির মল মাথার উপর, বইখাতার উপর পড়ে।

সমাপনী পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলে, “২২ নভেম্বর আমাদের সমাপনী পরীক্ষা। আমরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারি নাই। আমাদের পরীক্ষা ভাল হবে না।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ভবন নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্দ পাইনি।

“তবে উপজেলা পরিষদ থেকে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।”