Published : 12 Aug 2026, 02:43 PM
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি কওমি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতর থেকে বন্ধ করা কক্ষের মেঝেতে পড়ে থাকা শিশুটির গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুরের দারুল উলুম শুভম কওমি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কিন্ডারগার্টেন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন।
১২ বছর বয়সি হুসাইন কাজী উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নের বলনারায়ণ গ্রামের পলাশ কাজীর ছেলে এবং মাদ্রাসাটির আবাসিক ছাত্র ছিল।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার আসর নামাজের পর শিক্ষার্থীরা বাইরে খেলাধুলা করতে যায়; শিক্ষক ও কর্মচারীরাও বাইরে ছিলেন।
এ সময় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তার সন্তানের কাপড় নিতে দ্বিতীয় তলার ৬ নম্বর কক্ষে যান। কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে তিনি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে হুসাইনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তিনি চিৎকার দিলে মাদ্রাসার লোকজন সেখানে ছুটে আসে।
মুকসুদপুর ফায়ার সার্ভিসের লিডার রেজাউল করিম বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদ্রাসার এক শিক্ষক ফোন করে জানান, একটি ছেলে একটি কক্ষে একা অবস্থায় আছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।”
“তবে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তা খোলা সম্ভব হয়নি, পরে জানালার গ্রিল কেটে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা কক্ষে প্রবেশ করেন।”
রেজাউল বলেন, “কক্ষে ঢুকে জানালার গ্রিলের পাশে হুসাইনকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। গামছার অপর প্রান্ত খোলা ছিল। পরে মুকসুদপুর থানায় খবর দেওয়া হয়।”
মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। পরে বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা পলাশ কাজী মুকসুদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।