টাঙ্গাইলে তরুণীকে অপহরণ-দলবেঁধে ধর্ষণের দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
তিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে পিপি ওমারাও খান দিপু জানান।
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় তরুণীকে অপহরণের পর দলবেঁধে ধর্ষণের দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াছ তিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমারাও খান দিপু জানান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সখিপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোরশেদ আলমের ছেলে মো. শহীদ, বড় চওনা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে ইসমাইল, কচুয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান এবং তেলধারা (বাঘবেড়াকুলিয়া) গ্রামের আবু হানিফের স্ত্রী অজুফা বেগম।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আব্দুর রহমান পলাতক ছিলেন।
মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, ২০২০ সালের ১৮ মে রাতে ভুক্তভোগী তরুণী সখিপুরের কীর্তনখোলায় তার মায়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে আসামিরা তার গতিরোধ করে মুখ চেপে ধরে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে বিবস্ত্র অবস্থায় আসামি অজুফা বেগমের বাড়িতে আটকে রাখে। সেখানে আসামি শহীদ, ইসমাইল, আব্দুর রহমান ও মো. বাবুল তাকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবুল আকতার আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়। আদালতে মোট ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গ্রহণ মামলা চলাকালে আসামি মো. বাবুল মারা যান। ফলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
আইনজীবী ওমারাও খান বলেন, তিনজনকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আইনজীবী বলেন, জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন বলে রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
