১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেনীতে মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত

শুক্রবার বিকালে নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার খবর জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ফেনী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2024, 09:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:09 AM

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীতে মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার।

শুক্রবার বিকালে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম।

এদিকে বিকালে মুহুরী-কহুয়া-সিলোনিয়া নদীর বাঁধের ভাঙা অংশ পরিদর্শন করেছেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।

এদিকে টানা বর্ষণে ফেনী শহরের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে গেছে। শহরের অ্যাকাডেমি সড়ক, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, মিজান রোড, শান্তি কোম্পানি সড়কসহ নিচু এলাকায় হাঁটু পানি জমে গেছে। সকাল থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী।

পাউবো কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, পানির তীব্র স্রোতে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর অংশে নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া পানির প্রবল চাপে মুহুরী নদীর পরশুরামের টেটেশ্বর অংশের বাঁধ নতুন করে ধসে গেছে।

টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যে নদীতে পানি আরও বাড়তে পারে; এতে বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে যেতে পারে বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, “জুলাইয়ের শুরুতে নদীর যে ১১টি স্থান (ফুলগাজী ও পরশুরাম) ভেঙেছিল সেগুলো ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। তবে মেরামত করা বাঁধের পরশুরাম শালধর অংশে শুক্রবার আবার ভেঙে গেছে।”

উপজেলার শালধর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আঞ্জুমান আরা বলেন, “ঘরের চারপাশে পানি। রান্নাঘরে পানি। চুলা জ্বলছে না। বৃষ্টি আরও বাড়লে ঘর ডুবে যাবে।”

এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি তিনি।

কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, “জুলাইয়ের বন্যায় বোরো ধানের বীজতলা ভেসে গিয়ে অনেক ক্ষতি হয়েছিল। নতুন করে আবার বীজতলা তৈরি করা হয়। ফের নদীর বাঁধ ভেঙে জমি তলিয়ে গেছে। এবার বীজতলা নষ্ট হলে, না খেয়ে থাকতে হবে।”

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা হাবিব শাপলা জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় চিথলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম, পৌরসভার বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং শালধর সংলগ্ন ফুলগাজী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামসহ অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। 

সেইসঙ্গে পানিবন্দিদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান ইউএনও।

দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মোতাবেক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ভূঁইয়া।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার জানান, মুহুরী-কহুয়া-সিলোনীয়া নদীর দুপাশে ১২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। গত মাসে বাঁধের যে কয়েকটি স্থান ভেঙেছিল ইতোমধ্যে সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। ফের নতুন করে যেসব স্থান ভাঙছে, পানি একটু নেমে গেলে মেরামত করা হবে।

নতুন করে বাঁধের আর কোনো স্থান যাতে ভাঙতে না পারে সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তৎপর আছেন বলে জানান তিনি।

ফেনী জেলা প্রশাসক মোছাম্মদ শাহীনা আক্তার বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।