ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হক রনি বলেন, ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করেছে পরিবার।
শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘প্রয়াস’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় মঙ্গলবার রাতে ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হক রনি বলেন, “ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।”
বুধবার সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ফোরকানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
নিহত মো. ফোরকান মিয়া (২৯) নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে।
ফোরকান মিয়ার বড় ভাই মো. ইমন মিয়া বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন কাতার প্রবাসী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি দেশে আসেন। আসার কিছুদিন পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। শুক্রবার ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য ফোরকানকে ‘প্রয়াস’ নামে একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার সময় তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ‘প্রয়াস’ থেকে মোবাইলে ফোন করে জানানো হয়, ফোরকান অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
“ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে ফোরকানকে পাওয়া যায়নি। পরে সেখান থেকে ‘প্রয়াসে’ গিয়ে দেখা যায়, একটি লাশবাহী গাড়িতে আমার ভাইয়ের মরদেহ পড়ে আছে। আর বাইরে থেকে তালা দিয়ে কেন্দ্রের সবাই চলে গেছে। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তায় লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি।”
ইমন মিয়া বলেন, “আমার ভাইকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা শুনেছি, এর আগেও এখানে নাকি এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘প্রয়াস’ পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হয়। আমরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
এ ব্যাপারে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলামের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
