Published : 28 Dec 2024, 12:31 PM
কুষ্টিয়ায় সমিতির টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্রের কোপে এক ব্যক্তির কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার ঢাকা ঝালুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ জানান।
কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়া ব্যক্তির নাম আনিস। তিনি ওই এলাকার আসালত ফকিরের ছেলে।
৫০ বছর বয়সী আনিসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা ঝালুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, তারা কয়েকজন মিলে এলাকায় ‘সবুজ শান্তি’ নামে একটি সমিতি করেছেন। সব সদস্যরা সেই সমিতির ফান্ডে নির্ধারিত টাকা জমা রাখেন। সমিতির তহবিলে ৭১ হাজার টাকা জমা ছিল। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে সদস্যদের মধ্যে কথা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডার জেরে নজরুল নামে একজন আনিসকে আঘাত করে।
কুষ্টিয়া জেরারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হামিদুল ইসলাম বলেন, “কবজি কাটা অবস্থায় আনিস হাসপাতালে আসেন। কাটা অংশ তার কাছে ছিল না। প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
“এছাড়া তার পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অনেকটা অংশ কেটে গেছে। সবমিলিয়ে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার বড় অপারেশন প্রয়োজন। সেজন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, “এলাকায় একটি সমিতির টাকা লেনদেন করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলামের সঙ্গে আনিসের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে উভয়পক্ষের লোকজন আলোচনা করছিল। তাদের মধ্যে সমিতির টাকার বিষয়ে আগামী দুই-তিন দিন পর একটি সভার বিষয়ে কথা হচ্ছিল।
“এক পর্যায়ে প্রতিবেশী নজরুলের সঙ্গে আনিসের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় নজরুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনিসকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে আনিস মাটিতে পড়ে যান।”
তিনি বলেন, “পরে আনিস ধারালো অস্ত্রের আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নজরুলসহ তার লোকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।”
বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে জানিয়ে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, “জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে এঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি।”