নেত্রকোণার নারী নেত্রী বেগম রোকেয়া মারা গেছেন
নারী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূলে কাজ করা স্বাবলম্বীর সাবেক নির্বাহী পরিচালকের বয়স হয়েছিল ৭৮।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা, নারী নেত্রী বেগম রোকেয়া আর নেই।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার পৌনে ৩টার দিকে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
নারী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূলে কাজ করা স্বাবলম্বীর সাবেক নির্বাহী পরিচালকের বয়স হয়েছিল ৭৮।
নেত্রকোণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, স্বজন ও সহকর্মী রেখে গেছেন। স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাকে ভালবেসে ছেলেবেলার ডাক নাম ‘মস্তুরা আপা’ বলে সম্বোধন করতেন।
সন্ধ্যায় স্বাবলম্বীর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল বলেন, তার মরদেহ খুব শিগগির নেত্রকোণায় আনা হবে। সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
“দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অনেক মানুষের আশ্রয় হয়ে ওঠেছিলেন। স্বাবলম্বী পরিবার, সহকর্মীরা তাকে হারিয়ে গভীর শোকাহত। গোটা জীবন তিনি মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য উৎসর্গ করেছেন।”
তার মৃত্যুতে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রওশন আখতার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্বাবলম্বী থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন বেগম রোকেয়া। তিনি ১৯৪৮ সালের ১৭ মে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণির পাঠ শেষে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। দুই মেয়ের জন্মের পর তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
এরপর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি আবার লেখাপড়ায় ফিরে আসেন। বিএ ও বিএড পাস করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি নেত্রকোণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি।
১৯৮৬ সালে সমাজসেবা বিভাগের এবং ১৯৯০ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন পায় সংস্থাটি। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে সংস্থাটির উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সমাজসেবিকা ও জীবন সংগ্রামী বেগম রোকেয়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, গ্রামীণ ইলেক্ট্রিফিকেশন বোর্ড, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সার্ভিস সিভিল ইন্টারন্যাশনাল (এসসিআই), নেত্রকোণা সমাজকল্যাণ সংস্থা, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, নেত্রকোণা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, নেত্রকোণা চক্ষু হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বেগম রোকেয়া পেশাগত কারণে ভ্রমণ করেছেন অন্তত ২০টি দেশ। অংশগ্রহণ করেছেন অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সভা, সম্মেলনে।
