১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তায় পানি বাড়লেই প্লাবিত হয় তিন গ্রাম

ভোর থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নীলফামারী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 08:37 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

দিক পরিবর্তন করে ডানে সরে আসা তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করলেই প্লাবিত হয় তীরসংলগ্ন তিনটি গ্রাম। এ তিনটি গ্রাম হল- নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া ও ভেন্ডাবাড়ি।

বুধবার ভোর থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে (খালিশাচাপানি বাইশপুকুর) বিপৎসীমার (৫২.১৫) ১৩ সেন্টিমিটার (৫২.২৮) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ওই তিন গ্রামের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, পথঘাট তলিয়ে যায়।

এর আগে ওই তিন গ্রামের শতাধিক বসতঘর, ফসলি জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধে সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব। তবু ভাঙন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

ভারি বর্ষণে ১৪ দিনের ব্যবধানে আবারও গর্জে ওঠে তিস্তা। টানা ভারি বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এতে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ১৫টি চর ও নিম্নাঞ্চলীয় গ্রাম প্লাবিত হয়। 

তবে বিকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার (৫২.১৩) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। রাতে আরও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম বলেন, তিস্তা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩২ মিমিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তবে বৃষ্টিপাতও অব্যাহত ছিল। 

পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাতে পানি আবারও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় কেল্লাপাড়া, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের বিভিন্ন বসতভিটায় পানি প্রবেশ করেছে। 

“এর আগে পানি কমার পর তারা আমনের চারা রোপণ করতে শুরু করেছিল। কিন্তু সকালে পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই জমি তলিয়ে গেছে।”

কেল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম (৬০) বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুনাগাছ চাপানীর কেল্লাপাড়া, ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি গ্রাম প্লাবিত হয়। কিছুদিন আগে দিক পরিবর্তন করে ডানতীরে সরে আসায় এই তিনটি গ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়। ফলে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এরপর পানি কমলেও সবাই আর নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। 

“বুধবার সকালে আবার পানি বৃদ্ধি পায়। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে নদী ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউবের বাঁধ টিকবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় আছি।”

ছানাতামা গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, সকালে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতে বানের পানি নিম্নাঞ্চলে ঢুকতে শুরু করে। এতে নতুন শতাধিক পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

তিস্তাপাড়ের মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে ৭৮ বছরের বৃদ্ধ জলিল উদ্দিন বলেন, “নদীর পানি সাময়িকভাবে নেমে গেলেও ভাঙন, ফসলহানি ও জীবিকার সংকট থেকে যায় বছরের পর বছর। তাই প্রতি বর্ষায় একই প্রশ্ন ফিরে আসে- তিস্তার পানি বাড়লেই নিম্নাঞ্চলের মানুষের এই অন্তহীন কষ্টের স্থায়ী সমাধান কবে হবে?”