১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে মাদকের টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে যুবককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

গ্রেপ্তাররা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

ময়মনসিংহে মাদকের টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে যুবককে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
ময়মনসিংহ সদরে এক যুবককে হত্যায় ব্যবহার করা ছুরি ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Mar 2026, 05:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:04 PM

ময়মনসিংহ সদরে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তাররা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সদর উপজেলার অষ্টধার কুঠুরাকান্দা গ্রামের মো. আহাদ আলীর ছেলে মো. সজিব আলী (২০) এবং অষ্টধার ভিটাপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৫)। অপরজন ১৬ বছরের এক কিশোর।

নিহত মো. সুমন মিয়া (৩৫) একই গ্রামের আমছর আলীর ছেলে। তারা একসঙ্গে নিয়মিত মাদক ব্যবসা ও সেবন করতেন বলে দাবি পুলিশের।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সুমনের গলা কাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার মামা মাহিন হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মামলাটি নিবিড় তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। 

“গ্রেপ্তাররা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাকে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। বাকিদের ময়মনসিংহ কারাগারে পাঠানো হয়।” 

আদালতে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সম্প্রতি মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমন মিয়ার সঙ্গে সজিব আলীর হাতাহাতি হয়। এ বিরোধের ধারাবাহিকতায় সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। 

“২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মোবাইল ফোনে সুমনকে অষ্টধার সেনপাড়া এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তারা গাঁজা সেবন করেন। এক পর্যায়ে আবার টাকার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে কয়েকজন মিলে ধারালো ছুরি দিয়ে সুমনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।”

তিনি বলেন, হত্যার পর সুমনের লাশ অষ্টধার সেনপাড়া এলাকার সাহেব বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে রেললাইনের দক্ষিণ পাশে ধান ক্ষেতের সেচের নালায় ফেলে রাখা হয়।