সাতক্ষীরায় সাপে কাটার পর কবিরাজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা, শিশুর মৃত্যু
সাপের কামড়ের পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পাওয়ায় বা চিকিৎসায় দেরি হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় ঘুন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনরা প্রথমে তাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
কালিগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সাহাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আশাশুনির বুধহাটা এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
মৃত তানজিম হাসান ওই গ্রামের মোশাররফ ঢালীর ছেলে।
মোশাররফ ঢালী বলেন, সোমবার রাতে তাদের সঙ্গে (মা-বাবার সঙ্গে) ঘুমিয়ে ছিল তানজিম। রাত ২টার দিকে তাকে সাপে কামড় দিলে সে চিৎকার ও কান্না শুরু করে। এতে তাদের ঘুম ভেঙে যায়।
তিনি বলেন, “আমরা তানজিমের শরীরে সাপে কামড়ানোর চিহ্ন দেখতে পাই। এ সময় বিছানার পাশে একটি বিষধর কালাস সাপ দেখতে পাওয়া যায়।”
শিশুটির চাচা মোস্তফা ঢালী বলছেন, “তানজিমকে প্রথমে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কবিরাজ তখন বাড়িতে ছিলেন না। এরই মধ্যে তানজিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে দ্রুত তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।”
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাকির হোসেন বলেন, “শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আনতেও দেরি করা হয়েছে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।”
এ চিকিৎসক বলছেন, “বিষধর সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ বাসা থেকে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত।”
ওসি শাহিনুর বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে একবার কবিরাজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।”
তিনি বলেন, “সাপের কামড়ের পরে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না হওয়ায় বা চিকিৎসায় দেরি হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।”
