১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভৈরবে যুবলীগ নেতা হত্যা: চাচার পরিবার পলাতক, নেপথ্যে জমির দ্বন্দ্ব?

পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকত পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকও ছিলেন।

নরসিংদী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 06:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

পারিবারিক জমির দ্বন্দ্বের কারণে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকতকে খুন করা হতে পারে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। 

এদিকে ঘটনার পর থেকে পাশের চাচার পরিবারের লোকজন ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে বলে স্বজনরা জানিয়েছে। 

রোববার রাত ১২টার দিকে ভৈরব শহরের টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে সৈকতের উপর হামলা হয়। রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৪০ বছর বয়সি সৈকত ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।  পাশাপাশি তিনি ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি সারের ব্যবসা করতেন। ভৈরব বাজারে তার রিভারভিউ নামে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

আল আমিন সৈকত পৌর শহরের আড়াই ব্যাপারি বাড়ির মৃত জসিম মিয়ার ছেলে। তিনি মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন। 

পরিবার জানায়, আল আমিন সৈকত জমি সংক্রান্ত পারিবারিক মামলাসহ ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক একাধিক মামলায় জেল খেটেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি অনেকটা নিরব জীবনযাপন করতেন। 

সৈকতের স্ত্রী তানিয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামী রাজনৈতিক মামলায় ও জমি সংক্রান্ত পারিবারিক মামলায় জেল খেটেছেন। তার অনেক শত্রু ছিলো। রোববার রাতে বাসায় আসার পথে সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”

সৈকতের মা রোকেয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিত তার চাচাতো ভাইয়েরা। জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। কিন্তু সে বিরোধও মিটিয়ে ফেলা হয়েছিল। তবে আমার ছেলেকে ঘরের শত্রুরাই হত্যা করেছে। আমি দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে তাদের ফাঁসি চাই।”

নিহতের চাচাতো ভাই আরাফাত হোসেন বড় মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আল আমিন সৈকতের পারিবারিক দ্বন্দ্বসহ তার রাজনৈতিক শত্রুও থাকতে পারে। তবে কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।”

নিহতের শ্যালক বাকী বিল্লাহ বলছেন, রাত ১২টার দিকে গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে ছিলেন আল আমিন সৈকত। এসময় অচেনা ৪-৫ জন অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, আল আমিন সৈকতের বাসায় যাওয়ার সড়কটি রাতে বেশ নির্জন থাকে। চিৎকার শুনে এসে দেখতে পান কয়েকজন চলে যাচ্ছে। আল আমিন সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তার মাথা ও মুখ রক্তে লাল হয়ে যায়। ফলে প্রথমে তাকে চেনা যায়নি। তাকে ভয়ানকভাবে কোপানো হয়েছে। 

ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের কাছে সৈকতের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার তথ্য রয়েছে। এখনও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ নিজ উদ্যোগে একাধিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।”

মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর আনার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল আমিন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রিভারভিউ হোটেলে ছিলেন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি হোটেল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। বাসার সড়কে ঢুকে কিছুদূর যাওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ধরে। এরপর তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।

তিনি বলছিলেন, আল আমিনের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার একটি পায়ের রগ কাটা হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

আরও পড়ুন:

ভৈরবে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা