নারায়ণগঞ্জে মধ্যরাতে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ ৩
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন জানান, শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক৷
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পশ্চিম দেওভোগ বাঁশমুলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আযম।
দগ্ধরা হলেন- আলম (৩৫), রমজান (২২) ও রিফাত (১২)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। পেশায় এই রঙমিস্ত্রিরা স্থানীয় খলিল মুন্সির টিনশেড ঘরে ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় লোকজন বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে দগ্ধ তিনজনকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, তাদের সকলেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। এর মধ্যে আলমের শরীরের ৭২ শতাংশ, রমজানের ৫৮ শতাংশ এবং রিফাতের ২৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, রাত আড়াইটার দিকে দগ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাদের সেখান থেকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
এদিকে রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্ফোরণে টিনশেডের ঘরটির চাল সরে গেছে এবং দেয়ালের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। ঘরের একপাশে গ্যাস লাইনের একটি রাইজার রয়েছে।
এ ছাড়া ঘরের ভেতরে সিগারেটের পোড়া অংশ ও লাইটার পড়ে থাকতেও দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজনের ধারণা, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতর গ্যাস জমে ছিল। ঘরে থাকা লোকজনের কেউ সিগারেট ধরালে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ওসি নূরে আযম বলেন, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করেছে। টিনশেডের ঘরটির ভেতরে একটি গ্যাস লাইনের রাইজার ছিল। সেখানে কোনো লিকেজ থেকে জমা গ্যাসের কারণে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা করছি।
পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে, এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।
