Published : 09 May 2026, 05:49 PM
পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা ইপিজেড এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান।
এ সময় তারা বর্ধিত পরিবহন ভাড়া দ্রুত প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিবহন ভাড়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।
শ্রমিক আব্দুল আলীম বলেন, “আগে ইপিজেড থেকে কারখানার বাসে বাঘায় যেতে মাসে ১৯০০ টাকা দিতে হত। কিন্তু এখন কোম্পানি বলছে ২৫০০ টাকা দিতে হবে। আমার তো বেতন বাড়েনি, এই বাড়তি ৬০০ টাকা আমি কিভাবে দেব?”
তিনি জানান, লালপুরগামী বাসের ভাড়া ১৮০০ থেকে বাড়িয়ে ২৩০০ থেকে ২৪০০ করা হয়েছে।
আরেক শ্রমিক রহিম মিয়া বলেন, তারা কয়েকজন ভটভটিতে করে শাহপুর মহল্লায় যান, আগে তারা মাসিক ভাড়া তিনশ টাকা দিতেন, এখন ৬০০ টাকা দিতে বলছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, অল্প বেতনে তাদের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে তাদের বেতন বাড়ানো হয়নি, উল্টো যাতায়াত খরচ এক লাফে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সামান্য বেতনের টাকা যদি যাতায়াত ভাড়াতেই চলে যায়, তবে তারা কীভাবে চলবেন?
তারা ভাড়া না কমানো পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে তাদের আন্দোলনের মুখে ইপিজেড এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান বলেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। তারা বিক্ষোভ মিছিলও করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে ইপিজেড এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
বিষয়টি নিয়ে ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালকের (জিএম) বিএম শহীদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন চালকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। এখন শ্রমিক-চালক দুই পক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করে ভাড়া সমন্বয় করা হবে।”