Published : 08 Oct 2025, 06:38 PM
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পাবনায় এক ছাত্র হত্যা মামলায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদসহ ১৩৬ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সাহা অভিযোগপত্র প্রদান করেন বলে জানান পাবনা জেলা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল।
মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আছেন, পাবনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবং সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইদ।
তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, এ মামলায় বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার ৩৫ জন কারাগারে আছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পিপি জুয়েল বলেন, “মামলার এজাহারে ১০৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সম্ভবত একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তদন্তে আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার থেকে কারো নাম বাদ যায়নি বলে জেনেছি। অভিযোগপত্রের কপি বা অনুলিপি হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।”
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত বছরের ৪ অগাস্ট দুপুর ১২টার দিকে পাবনা শহরের ট্রাফিক মোড়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।
এতে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার চর বলরামপুর গ্রামের দুলাল উদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (১৮) এবং শহরের সিদ্দিক মেমোরিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও হাজিরহাট বেতেপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মাহবুব হোসেন নিলয় (১৬) নিহত হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১০ অগাস্ট জাহিদুলের বাবা দুলাল উদ্দিন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার অভিযোগে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে জাহিদুল মারা যান বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জাহিদুলের বাবা দুলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতভাবে যারা জড়িত তারা যেন শাস্তি পান। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।”