Published : 18 Aug 2026, 06:56 PM
একসময় কাঠের সেতুই ছিল তিস্তা পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। এই সেতু পেরিয়েই স্কুলে যেত শিশুরা, হাটে উঠত কৃষকের ফসল, হাসপাতালে নেওয়া হতো অসুস্থ মানুষকে।
সেই সেতুর একটি অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ায় এখন পারাপারের ভরসা একটি ছোট ডিঙি নৌকা।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিস্তা পার হচ্ছেন অন্তত দশ গ্রামের বহু মানুষ। নদীতে স্রোত বাড়লে বাড়ছে আতঙ্কও।
বিশেষ করে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বই-খাতা হাতে প্রতিদিন তাদের নদী পার হতে হচ্ছে নৌকায়। কেউ কেউ আবার ভাঙা সেতুর অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করছেন ঝুঁকি নিয়ে।
কলেজ শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার দিপ্তী বলেন, “সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিদিন যাতায়াতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নদী পার হতে ভয় লাগে। কখন কী হয়, সেই চিন্তা থাকে। দ্রুত সেতুটি ঠিক হলে আমাদের অনেক কষ্ট কমে যাবে।”
দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তারেক হোসেন বলেন, “বর্ষার সময় নদীতে পানি বাড়লে ভয় আরও বেড়ে যায়। তারপরও পড়াশোনার জন্য প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। আমরা নিরাপদ একটা রাস্তা চাই।”
শুধু শিক্ষার্থী নয়, সেতু ভেঙে যাওয়ায় পুরো এলাকার মানুষের জীবনযাত্রাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে যেমন দুশ্চিন্তা করতে হয়, তেমনি বৃদ্ধ ও অসুস্থ কাউকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হয় আতঙ্ক। রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে সেতু ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকার মানুষের জীবিকার বড় অংশই কৃষিনির্ভর। মাঠের ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল বাজারে নিতে এখন বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সেতু ভেঙে যাওয়ার পর আমরা খুব কষ্টে আছি। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষ আর নারীদের নিয়ে বেশি চিন্তা হয়। একটা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই সেতু দিয়ে আমরা মানুষ পারাপারের পাশাপাশি কৃষিপণ্যও নিয়ে যেতাম। এখন নৌকায় করে নিতে হচ্ছে। খরচ বেড়েছে, সময়ও বেশি লাগছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি জরাজীর্ণ ছিল। বারবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুর্বল কাঠামো ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার পর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
তাদের দাবি, স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের আগ পর্যন্ত অন্তত একটি নিরাপদ অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক।
পাশপাশি দ্রুত টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও তাদের।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।