১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বরিশালে দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচা থেকে হরিণ উধাও

খাঁচায় থাকা ১৩টির মধ্যে একটি হরিণ নেই বলে জানিয়েছে দুর্গাসাগর দীঘির তত্ত্বাবধায়ক।

বরিশালে দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচা থেকে হরিণ উধাও
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশার দুর্গাসাগর দীঘি পাড়ে খাঁচা থেকে একটি হরিণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বরিশাল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2025, 07:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:31 PM

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশার দুর্গাসাগর দীঘি পাড়ে দর্শনার্থীদের জন্য খাঁচায় রাখা হরিণের মধ্যে একটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সোমবার সকাল থেকে হরিণটি দেখাতে না পেয়ে বিকালে মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান দুর্গাসাগর দীঘির তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, “রোববার রাতে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অলিউল হাওলাদার, জাহিদুর রহমান ও বশির শিকদার পরদিন সকালে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। সকাল ১০টার দিকে হরিণ পরিচর্যাকারী আশিক লক্ষ্য করেন, একটি হরিণ নেই। 

“বিষয়টি তাৎক্ষণিক আমাকে জানালে, ঘটনাস্থলে গিয়ে খাঁচা তালাবদ্ধ দেখতে পাই। তবে খাঁচার মধ্যে থাকা ১৩টির মধ্যে একটি হরিণ নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তারা এসেও তদন্ত করেছেন।”

এ ঘটনায় থানায় জিডি করা পর থেকে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর।

ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলেও খাঁচার আশপাশের ক্যামেরাগুলো কাজ না করায় কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির শিকদার বলেন, হরিণ না পাওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। হরিণ উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ। 

বরিশাল জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আবদুল মতিন খান বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হরিণ গায়েব হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হারিয়ে যাওয়া হরিণটি উদ্ধারে তদন্ত চলছে বলে জানান বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ।

১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ন বিশাল এই জলাধারটি খনন করেন। রাজা তার স্ত্রী দুর্গামতির নামানুসারে এর নাম করেন দুর্গাসাগর। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে দিঘীটি পুনরায় সংস্কার করা হয়। ‘দুর্গাসাগর দিঘীর উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারণ্য’ নামে একটি প্রকল্পের অধীনে বরিশাল জেলা প্রশাসন দিঘীটির তত্ত্বাবধান করছে।