১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সবসময় স্বর্ণালংকার পরতেন বৃদ্ধা, সেগুলোর লোভেই হত্যা করে নাতনী: পুলিশ

রোববার রাতে নাটোরের বনপাড়া সরদার পাড়া এলাকা থেকে মোছা. মমতাজ বেগমের চোখ-মুখ থেতলানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাটোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Oct 2025, 05:55 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:26 PM

নাটোর বনপাড়ায় স্বর্ণালংকারের লোভে ও স্বামীকে নিয়ে কটুক্তি করায় প্রতিবেশী নাতনী বৃদ্ধা মমতাজ বেগমকে মুখ থেঁতলে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক তরুণি ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর  শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,  রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বনপাড়া সরদার পাড়া এলাকা থেকে মোছা. মমতাজ বেগমের চোখ-মুখ থেতলানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত ৭৫ বছর বয়সী মমতাজ বেগম ওই এলাকার প্রয়াত শফিউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী।

তাকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ফাউজিয়া খাতুন (১৯) ও তার স্বামী মিনারুল ইসলামকে। 

ফাউজিয়া সরদারপাড়া এলাকার শাহিনুজ্জুমানের মেয়ে এবং তার স্বামী মিনারুল ইসলাম বড়াইগ্রামের মালিপাড়া এলাকার ওয়াহেদুল ইসলামের ছেলে। 

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মমতাজ বেগমের একটি আংটি, একজোড়া কানের দুল এবং বাকি স্বর্ণের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।  

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, স্বামীর প্রয়াণের পরে মমতাজ বেগম দুজন গৃহকর্মী নিয়ে একাই বাড়িতে থাকতেন। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ মমতাজ সবসময় স্বর্ণালংকার পড়ে থাকতেন, যেগুলোর প্রতি খুব লোভ ছিল নাতনী সম্পর্কের প্রতিবেশী ফাউজিয়া খাতুনের। 

নাটোর সদরে স্বামীর সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকলেও বনপাড়ায় গেলে মমতাজ বেগমের কাছেই থাকতেন ফাউজিয়া। 

এসপি বলেন, ফাউজিয়ার প্রথম বিবাহের বিচ্ছেদর পর দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামীকে পছন্দ করতেন না মমতাজ বেগম। এর মধ্যে রোববার বাড়ি গিয়ে ফাউজিয়া নানীর কাছে থাকতে চাইলে অস্বীকৃতি জানান মমতাজ বেগম এবং তার স্বামীকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করে।

“এ নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটি হলে, একপর্যায়ে মমতাজ বেগমকে ঘরে থাকা মেটাল টর্চ লাইট দিয়ে মাথায়, মুখে, কপালে আঘাত করে তার শরীর থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ফাউজিয়া।”

এ ঘটনায় মমতাজ বেগমের মেয়ে বেবি আক্তার বাদি হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এর রহস্য উৎঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। 

পরে নাটোর শহরের হরিশপুরে এলাকা থেকে বুধবার গভীর রাতে ফাউজিয়া ও স্বামী মিনারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বের হয়ে আসে হত্যার রহস্য, বলেন জেলা পুলিশের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা।