Published : 30 Apr 2026, 12:14 AM
নিবন্ধনবিহীন অলনাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সংবাদ অপসারণে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ।
একই সঙ্গে এ ধরনের নিউজ পোর্টালের প্রকাশিত কোনো সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ, শেয়ার, লাইক ও কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকালে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই নিদের্শনা দেওয়া হয়।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “পুলিশ কমিশনার স্যার এই গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সিলেট মহানগর পুলিশের আইন অনুযায়ী স্যার গণবিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন।”
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, "তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো নিদের্শনা নয়। এটি ২০২১ সালের হাইকোর্টের একটি নিদের্শনা। অনলাইনের নিবন্ধন বাতিল তথ্য মন্ত্রণালয় করবে। আমাদের যেখানে ভূমিকা নেওয়ার কথা, সেটি আমরা নিয়েছি।"
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশের জন্য নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল কর্তৃক যথাযথ রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত ভুল, অসত্য, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মানহানিকর, সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে; যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।
এতে বলা হয়েছে, “এ অবস্থায় গণবিজ্ঞপ্তি জারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে (১ মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ১৮.০০ ঘটিকা) রেজিস্ট্রেশন বিহীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেশি-বিদেশি ডোমেইন থেকে অপসারণের নির্দেশ প্রদান করা হলো।
“অন্যথায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। উক্ত রূপ নিউজ পোর্টালের প্রকাশিত কোনো সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ, শেয়ার, লাইক ও কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকার জন্য সিলেট মহানগরীর সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হল।”
তবে বিষয়টি নিয়ে সিলেটের অনেক সাংবাদিক প্রশ্ন তুলেছেন।
সাংবাদিক আহমেদ শাহীন তার ফেইসবুকে লিখেছেন, “অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন, অনুমোদন, বাতিল বা নীতিগত নিয়ন্ত্রণ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশাসনিক বিষয়। প্রেস ও গণমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া প্রশাসনিক এখতিয়ারের প্রশ্ন তোলে।
“পুলিশের দায়িত্ব হল, ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে তদন্ত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং প্রচলিত আইনের অধীনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা। কিন্তু নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ বা লাইসেন্স বাতিলের একক প্রশাসনিক ক্ষমতা পুলিশের নয়।”