Published : 27 Mar 2026, 08:29 PM
পটুয়াখালীতে তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার এক উপ-খাদ্য পরিদর্শককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
গ্রেপ্তারের পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম।
কারাগারে যাওয়া মো. অলিউল্লাহ অলি মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের হারুন মুন্সির ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরব আলী নামের এক চাষি উপ-খাদ্য পরিদর্শক অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাউফল পৌরসভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে অলিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর অলিউল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানান মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, বাউফল থানা থেকে চিঠি পাওয়ার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত এক আদেশে অলিউল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আরব আলীর করা চাঁদাবাজির মামলায় অলিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার অত্যাচারে চরের তরমুজ চাষিরা অতিষ্ঠ ছিল। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
মামলার বরাতে তিনি বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলা ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক কয়েক মৌসুম ধরে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চরের জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমেও তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন।
“তরমুজ চাষ করা জমি নিজের দাবি করে তরমুজ কেটে নিতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন অলিউল্লাহ। গত ১৬ মার্চ চাষিরা প্রায় নয় হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
“ওই দিন বেলা ১১টার দিকে অলিউল্লাহর নেতৃত্বে কয়েকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে আবার ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাষিরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অলিউল্লাহ ও তার লোকজন তরমুজ বোঝাই ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেন। আরেকটি ফেরত দেওয়া হয়নি।”