Published : 08 Oct 2025, 08:13 PM
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহাল বিলুপ্ত ঘোষণা করে একে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
‘যাদুকাটা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’ বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানায়।
যাদুকাটা নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে বক্তব্য দেন। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে কলামনিস্ট গোলাম সারওয়ার বলেন, “আমরা ইজারাদার বা শ্রমিক কারো প্রতিপক্ষ নই। আমরা সিস্টেমের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছি। এই ইজারা প্রথায় সরকার হয়ত সামান্য কিছু টাকা পায়, কিন্তু আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, “যাদুকাটা নদীর পরিবেশ রক্ষা করতে হলে একে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণার পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য সনাতন পদ্ধতিতে পরিবেশ সম্মত উপায়ে কমিউনিটি ভিত্তিক বালু ও পাথর আহরণের সুযোগ করে দিতে হবে।”
যাদুকাটা নদীতে দুটি বালুমহাল রয়েছে। এগুলো যাদুকাটা-১ এবং যাদুকাটা-২ বালুমহাল নামে পরিচিত। যাদুকাটা-১ বালুমহালটি তাহিরপুর উপজেলার চালিয়ারঘাট মৌজায় এবং যাদুকাটা-২ বালুমহালটি বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর মৌজার চালিয়ারঘাট, লাউর এবং ইকরাটিয়া মৌজায় অবস্থিত।
অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে এ নদী তীরের ২০টি গ্রাম বিলীনের পথে রয়েছে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, বালুমহাল ও বালুমহালের বাইরে থেকে যান্ত্রিক উপায়ে বালু উত্তোলনের ফলে পর্যটনকেন্দ্র শিমুলবাগান, বারেক টিলা, শাহ আরেফিন সেতু, বিজিবি ক্যাম্প, লাউড়েরগড় বাজার, বিন্নাকুলী বাজার, ইসকন মন্দির, অদ্বৈত আখড়া, ঘাগটিয়া, সাহিদাবাদ, লাউড়েরগড়, গড়কাটি, মোদেরগাঁও, পাঠানপাড়া, মানিগাঁও, কুনাটছড়া, সোহালা, মিয়ারচর ও সত্রিশ গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
চলতি বছর উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় বেশ কিছুদিন ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ছিল। সর্বশেষ নদীর পাড় না কাটা ও ড্রেজার মেশিন, বোমা মেশিন ব্যবহার না করার শর্তে বালুমহাল দুটি ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু ইজারা শর্ত লঙ্ঘন করে এখন যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সুনামগঞ্জ সমিতি সিলেটের সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সুনামগঞ্জ সমিতি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ দিদার চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা সিলেট জেলার কোষাধ্যক্ষ জাফর সাদেক শাকিল, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু, নদী তীরবর্তী ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মুজিবুর রহমান।