১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গায় গত জুলাইয়ের চেয়ে এবার পাঁচগুণ বেশি বৃষ্টি

এ বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪১৭ মিলিমিটার।

চুয়াডাঙ্গায় গত জুলাইয়ের চেয়ে এবার পাঁচগুণ বেশি বৃষ্টি
চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টির পানি জমে বেহাল সড়ক।

মানিক আকবর

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2025, 08:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:30 PM

এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত বেড়েছে চুয়াডাঙ্গায়। গত একমাসে জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪১৭ মিলিমিটার, যা গত বছরের এ সময়ের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি। 

তবে এ অতিবৃষ্টি জেলাবাসীর জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।উপার্জন কমে গেছে নিম্নআয়ের মানুষদের। 

এছাড়া, বৃষ্টিতে জেলার নীচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে কখনো কখনো ঝড় বয়ে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে কৃষি ফসলেরও।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, “গত বছর বর্ষা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত ছিল না। তখন পুরো জুলাই মাসজুড়ে বৃষ্টিপাত হয়েছিল মাত্র ৮৫ মিলিমিটার। 

“কিন্তু এ বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪১৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ এ বছর বৃষ্টিপাত বেড়ে গেছে প্রায় পাঁচগুণ।”

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টিপাত বেশি বেড়েছে জুলাইয়ের শেষের দিকে এসে। গত ২৪ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আট দিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১২১ মিলিমিটার।”

অতিবৃষ্টির কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা। 

জেলার কৃষকরা বলছেন, চাষের জন্য বৃষ্টি অবশ্যই প্রয়োজন কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি ক্ষতির কারণ হয়েও দাড়াঁয়।  

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃষক আফতার উদ্দিন বলছিলেন, “চলতি বছরের জুলাই মাসে বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ঝড়ও হয়েছে। এতে পানবরজসহ বিভিন্ন কৃষি ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে ধসে পড়েছে পেঁপে বাগান।”

একই গ্রামের ভ্যানচালক ইদ্রিস আলী বলেন, “আকাশে মেঘ দেখলে কেউ খোলা ভ্যানে ওঠেন না। কাল (বৃহস্পতিবার) সারাদিনই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। আমাদের আয়-উপার্জন হয়নি। ”

অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্যেও। বৃষ্টির কারণে মালামাল বহন করতে বেশি গাড়িভাড়া গুনতে হয়েছে। কাঁচামরিচসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। 

চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নাজিমউদ্দিন বলেন, “বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম। ফলে কিছু কিছু সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছে চলে গেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। পটল কিছুদিন আগেও ছিল ২০ টাকা কেজি। শনিবার বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।”

তবে সামনে বৃষ্টিপাত আরও বাড়ার কথা জানালেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান। 

তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর ১ ও ২ অগাস্ট মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি এ মাসেও বেশ কিছুদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে, ৪ অগাস্টের পর বৃষ্টিপাত বাড়বে।