ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চের’ আয়োজনে হাসপাতাল গেইটের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে মঞ্চের সংগঠক আবু বকর ছিদ্দিক রুমেল, আব্দুল হান্নান আল আজাদ এবং ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলো ছাড়াও এই হাসপাতালে আশপাশের বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। সাধারণ মানুষ ছুটে আসে সুচিকিৎসার আশায়। প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী ও স্বজনের উপস্থিতি থাকে এই হাসপাতালে।
বক্তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র সাধারণ মানুষের আশা আজ গুড়েবালি। বঞ্চিত হচ্ছে সুচিকিৎসা প্রাপ্তি থেকে। দিনকে দিন প্রকট থেকে প্রকট হচ্ছে নানান অসঙ্গতি, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির চিত্র।
অব্যবস্থাপনা ও অসঙ্গতির মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুন লিফটে ছড়িয়ে পড়ে।
সেই সময় সপ্তম তলা থেকে নিচের অন্য তলায় অবস্থানরত রোগী, রোগীর স্বজন এবং কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ায়। সকলেই আত্মরক্ষার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। ভবনের পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটি সিঁড়ি চালু থাকায় সবাই একমুখী হয়ে নিচে নামার প্রাণপণ চেষ্টা করেন।
একসঙ্গে শতশত মানুষ নিচে নামার চেষ্টার কারণে হুড়োহুড়িতে কেউ কেউ চাপ সহ্য করতে না পেরে সিঁড়িতে পড়ে যান। এতে পদদলিত হয়ে অনেকেই আহত হন। এমনকি নিহতের খবরও পাওয়া যায়। যার তথ্য সাংবাদিকরা নিহতদের স্বজনদের বরাতে তুলে ধরেন।
বক্তাদের অভিযোগ, অবাক করার বিষয়, বিভাগীয় কমিশনার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই হতাহতের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা পদদলিত হয়ে কেউ মারা যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমে বলতে থাকেন তারা।
সাংবাদিকরা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরলেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। অবশেষে দুজনের নিহত হওয়ার হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে এই দুজন যে পদদলিত হয়ে মারা গেছেন তা স্বীকার করেনি কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে আহতের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন একদম চুপ।
বক্তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ‘আতঙ্কে হতাহত ও অব্যবস্থাপনার’ বিষয়ে তদন্ত কমিটি হলেও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ একাধিকবার বাড়ানো হয়। অবশেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশে গড়িমসি করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
জনসংশ্লিষ্ট এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করা পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটি নেতারা।
এতে আনোয়ার হোসেন, আরিফুল হাসান, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, সাদ্দাম হোসেন, সুশান্ত শীল এবং আবু সাইফ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) চিকিৎসক মাইন উদ্দিন খান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি পড়ে প্রকাশ করবেন।
