১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহীতে মাছ চুরির অভিযোগে ভ্যানচালককে গাছে বেঁধে নির্যাতন

হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা সেখানে যাই।”

রাজশাহীতে মাছ চুরির অভিযোগে ভ্যানচালককে গাছে বেঁধে নির্যাতন
মাছ চুরির অভিযোগে রাজশাহীর বাঘমারায় এক ব্যক্তিকে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজশাহী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2025, 07:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:26 PM

রাজশাহীর বাগমারায় মাছ চুরির অভিযোগে মুজিবুর রহমান নামে এক বৃদ্ধ ভ্যানচালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বুধবার সকালে উপজেলার হাটমাধনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বলে জানান বাগমারা থানার হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সিদ্দিকুর রহমান।  

মুজিবুর রহমান উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ভ্যানচালক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুজিবুর হাটগাঙ্গোপাড়া বাজার থেকে ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হাটমাধনগর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন তার গতিরোধ করে। 

তারা অভিযোগ তোলেন, মুজিবুর তাদের বিল থেকে মাছ চুরি করে বিক্রি করছেন। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে।

এ ঘটনা দেখে সকাল ১০টার দিকে জনাব আলী নামের মুজিবুরের এক আত্মীয় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা গিয়ে মুজিবুরকে উদ্ধার করে। পরে ফাঁড়ি থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

জনাব আলীর দাবি, উপজেলার জোঁকাবিল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে হাটমাধনগর ও বাসুদেবপাড়া গ্রামের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিলের মালিকানা ও মাছ চাষ নিয়ে আগে একবার খুনের ঘটনাও ঘটেছে। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মুজিবুরকে ধরে গাছে বেঁধে ব্যাপক নির্যাতন করেছেন আবুল কালাম, আফসার আলী, পিয়ার বকস, নাদের আলীসহ কয়েকজন। তিনি কোনো ভাড়া নিয়ে হাটগাঙ্গপাড়া গিয়েছিলেন। কোনো মাছ বিক্রি করতে যাননি। কিন্তু তারা অভিযোগ করে মাছ চুরি করে বিক্রি করেছে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আবুল কালাম বলেন, “মুজিবুর ও তার ভাই এবাদুর দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিলের মাছ চুরি করে বাজারে বিক্রি করছেন। কয়েকবার হাতেনাতে ধরার পরও তারা সংশোধন হননি। কয়েকদিন আগে তারা বিলের মুখের একটি জলকপাট খুলে মাছ বের করে দেন।

“সকালে তিনি আড়তে গিয়ে মাছ বিক্রি করেছেন। এমন খবর পেয়ে আমরা তাকে ধরে পুলিশে দিয়েছি।” 

বাগমারা থানার হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা সেখানে যাই। তখন মুজিবুর বাঁধা অবস্থায় ছিলেন না, তবে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের হেফোজতে দেওয়া হয়েছে।” 

তিনি আরও বলেন, বিলের মাছচাষিদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ এসেছে; তিনি নাকি মাছ চুরি করে বিক্রি করেছেন। তবে তারা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এ ছাড়া নির্যাতনের শিকার মুজিবুর রহমানও এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।