Published : 28 Jul 2025, 03:36 PM
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনে পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগে হাউসবোট এবং যাদুকাটা ও ধোপাজান নদীতে ব্যবহৃত অবৈধ ড্রেজার জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ও তাহিরপুর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর এই আদেশ দেন।
২ জুলাই স্থানীয় দুটি পত্রিকায় ‘পর্যটনের নামে ধ্বংস হচ্ছে টাঙ্গুয়ার জীববৈচিত্র্য’ এবং ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন’ শিরোনামে প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রোববার আদালত এই নির্দেশনা দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল জানান।
তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ (১) ধারা অনুযায়ী আমলে নেওয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে আদালত তাহিরপুর থানার ওসিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
আদেশে এতে বলা হয়, টাঙ্গুয়ার হাওরে চলাচলরত হাউসবোটগুলো বৈধ কি-না, সরকারকে কর প্রদান করছে কি-না এবং ১৯৭৬ সালের শিপ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী নিবন্ধিত কি-না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
একইসঙ্গে সিলেটের পিবিআই পুলিশ সুপারকে যাদুকাটা ও ধোপাজান নদীতে ব্যবহৃত ভলগেট, ড্রেজার মেশিন, ড্রামট্রাকসহ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, হাওরে পর্যটক আসলেও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তেমন সৃষ্টি হয়নি, বরং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাছ, পাখি এবং গাছপালা ক্রমশ কমছে। হাউরে যান্ত্রিক ট্রলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পর্যটকদের জন্য হাওরে অনিয়ন্ত্রিত হাউসবোট চলাচল পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে হাওরের।
এ ছাড়া, আদালতের নজরে এসেছে যে, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী ধোপাজান ও যাদুকাটা থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের ৫ অগাস্টের ‘পটপরিবর্তনের’ পর কোটি কোটি টাকার বালু লুট হচ্ছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়।
আদালত এই বিষয়গুলোতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলে, তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র তৈরি এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া যন্ত্রপাতি (পাইপ, ভলগেট, ড্রেজার, ড্রাম ট্রাক, অবৈধ হাউসবোট ইত্যাদি) তাৎক্ষণিক জব্দ করতে হবে।
আইনজীবী মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত নদীগুলোর বালু লুট সম্পর্কেও তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
“পুলিশ জব্দ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পারবে অথবা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে এসব উপকরণ জব্দ করতে পারবে। আদালতের এই রায়টি সময়োপযোগী।”