১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জ বারে বিএনপি-জামায়াত বিনা ভোটে জয়ী, বাধার অভিযোগ আওয়ামী লীগের

সভাপতি বলেন, “বহিরাগত লোকজনের ভয়ে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নেননি। এমন বাধা আমরাও অতীতে অনেক পেয়েছি, কিন্তু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াইনি।”

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2025, 05:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:38 AM

সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি ও জাময়াতপন্থিরা। 

বুধবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৭টি পদের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিএনপি ও জামায়াতপন্থি একক প্যানেলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় বলে জানান নির্বাচন কমিশনার কায়ছার আহমেদ লিটন। 

সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার কায়ছার আহমেদ লিটন বলেন, ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৩০ জানুয়ারি এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তফসিল অনুযায়ী, ১৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ১৭টি পদের বিপরীতে তিনটি পদ ছাড়া বাকি ১৪টি পদে একটি করে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়। 

২২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সভাপতি পদে কামরুজ্জামান কামাল (জাপা), সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল হামিদ (বিএনপি) ও আমিনুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ) এবং ক্রীড়া ও সাস্কৃতিক সম্পাদক পদে মুজাহিদ বিন রহমান মিঠুন (জাপা) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। 

এ অবস্থায় ১৭টি পদে সবাই একক প্রার্থী হওয়ায় শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার (বিএনপি) ও রফিকুল ইসলাম সেলিম (জামায়াত) সমর্থিত একক প্যানেলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

আওয়ামীপন্থি একজন আইনজীবী বলছিলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। বৃহস্পতিবার আদালত প্রাঙ্গণে বহিরাগত লোকজন এসে আমাদের প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী গোলাম হায়দারকে লাঞ্ছিত করে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ না নিতে প্রকাশ্যে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। পাশাপাশি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ও দেখানো হয়। 

“৫ অগাস্ট পটপরিবর্তের পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অপসারিত পিপি আব্দুর রহমান এবং অপসারিত জিপি রাখাল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। যে কারণে ঝামেলা এড়াতে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি।” 

বিনা ভোটের নির্বাচন প্রসঙ্গে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে সব দলের অংশগ্রহণেই ভোট হতে দেখেছি। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরাও সেসব নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। এবারই প্রথম বিনা ভোটে আইনজীবী সমিতির কমিটি গঠিত হওয়ায় আইনজীবীরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলেন। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটাধিকার নিয়ে আন্দোলন করলেন, সরকারের পতন হল, অথচ সেই বিনা ভোটে নেতারা নির্বাচিত হলেন।” 

নবনির্বাচিত সভাপতি শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার বলেন, “সমিতির ১৭টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ১২টিতে বিএনপি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচটি পদে জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।” 

আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলীয়ভাবে কাউকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়নি। বহিরাগত লোকজনের ভয়ে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নেননি। এমন বাধা আমরাও অতীতে অনেক পেয়েছি, কিন্তু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াইনি।”