Published : 23 Sep 2025, 06:16 PM
মানিকগঞ্জ পৌরসভায় একটি ফ্ল্যাট থেকে মা এবং দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন।
নিহতরা হলেন- শিখা আক্তার (২৯), তার ছেলে আরাফাত ইসলাম আলভী (৯) এবং মেয়ে সাইফা আক্তার (২)।
শিখা আক্তারের স্বামী শাহীন আহমেদ (৪২) মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি এলাকায় ইজিবাইক চালাতেন। মাস দেড়েক আগে প্রবাসী হন।
শাহীন আর শিখা প্রায় পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন। দুজনেরই ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর শিখার মেয়ে সাইফা হয়। ছেলে আলভী প্রথম সংসারের।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন বলেন, “ঘটনাস্থলে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইডের উপকরণ মিলেছে। যেহেতু ফ্ল্যাট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। হয়ত মা তার দুই শিশুসন্তানকে বিষপান করিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজেও বিষপানে আত্মঘাতী হন। বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। বাকিটা ময়নাতদন্তে জানা যাবে।
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।”
শাহীন আহমেদের মামা আমান আনসারী (৪৮) বলেন, শাহিনের বাবা-মা নেই। বোনের বাড়ি হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ এলাকায় থেকেছেন। মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে তাদের এই ফ্ল্যাট বাসায় তুলে দিয়ে যান।
পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেন (৩৫) বলেন, মাস দেড়েক হয় তারা ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছেন। একবারই শিখার স্বামীকে দেখেছিলাম। শিখা এবং তার ছেলেমেয়ে এই বাসায় থাকেন। তারা বাসাতেই থাকেন। বাইরে খুব একটা বের হন না।
“বিদ্যুৎ বিলের টাকা চাওয়ার জন্য সকালে তাদের দরজায় কড়া নাড়ি। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে অবগত করি। তিনি আসেও দরজায় দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।”
পরে জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ আসে। তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের উপর মা এবং মেঝে থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানান আলমগীর হোসেন।