১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুর নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ২২ সেতু-কালভার্ট, সংস্কার না হওয়ায় আতঙ্ক

রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও কালভার্ট চিহ্নিত করে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিডিনিউজ২৪

আফতাবুজ্জামান হিরু. রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jul 2026, 12:56 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:42 PM

রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে অন্তত ২২টি সেতু ও কালভার্ট। কোথাও ঢালাই খসে বেরিয়ে এসেছে লোহার রড, কোথাও ভেঙে গেছে রেলিং, আবার কোথাও সামান্য যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে পুরো সেতু। 

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সেতু ও কালভার্ট দিয়ে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ। 

তারা বলছেন, যেকোনো সময় এসব সেতু ও কালভার্ট ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত এগুলো পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা উচিত। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী বলেন, নগরীর বৈরাগীপাড়া, সেনপাড়া, তাঁতীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ২২টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর সিটি করপোরেশন। ২০৫ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করে।

এখানকার ৩৩টি ওয়ার্ডের নতুন ও পুরাতন মিলে রাস্তা প্রায় ১ হাজার ৬৫৪ দশমিক ১৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা এক হাজার ২২১ দশমিক ৯২ কিলোমিটার, আরসিসি ৮১ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৩৫১ দশমিক ২২ কিলোমিটার। 

শ্যামাসুন্দরী, কেডি, চিকলী, নাছনিয়া, কুকরুল, ঘাঘট, খোখসাসহ বিভিন্ন খাল ও নদ-নদী ঘিরে এই নগরীতে ১৮২টি সেতু এবং এক হাজার ১৮৪টি কালভার্ট রয়েছে। আর নর্দমা রয়েছে ৪৪১ দশমিক ১৮ কিলোমিটার।

সম্প্রতি বৈরাগীপাড়া, নূরপুর, তাঁতীপাড়া, মুলাটোলা এলাকা ঘুরে সেতু ও কালভার্টের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা যায়।   

সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীপাড়া-নূরপুর সংযোগ সেতু। সেতুটির ওপর ও নিচের কংক্রিটের অংশ ভেঙে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। পিলারগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক দশক ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও পিকআপ এই সেতু ব্যবহার করছে।

বৈরাগীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, “বহুবার সিটি করপোরেশনে লিখিত আবেদন করা হলেও শুধু আশ্বাস মিলেছে, কাজ হয়নি। সময়ের সঙ্গে সেতুটির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে এবং ছোট যানবাহন চলাচলের সময়ও সেতুটি কাঁপতে থাকে।”

একই এলাকার বাসিন্দা আকলিমা আকতারের দাবি, সংস্কারের পরিবর্তে পুরনো সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। 

এলাকাবাসী বলেন, এই সেতুর মাধ্যমে মহাদেবপুর, স্টেশন বাবুপাড়া, শাপলা চত্বর, লালবাগ ও জাহাজ কোম্পানিসহ বিভিন্ন এলাকায় সহজে যাতায়াত করা যায়। তাই এটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া-মুলাটোল সংযোগ সেতুতেও। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুর রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সেনপাড়ার বাসিন্দা নয়ন মিয়া বলেন, “বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই সেতুটি ধসে পড়তে পারে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।”

এদিকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দুই বছর ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটি দিয়ে চলাচল হলেও এখনও দুই পাশে রেলিং নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের কোনো তৎপরতা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানলেও কাজ শেষ করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজম আলী বলেন, নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও কালভার্ট চিহ্নিত করে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।