লক্ষ্মীপুরে ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালানো ব্যবসায়ী ঢাকায় গ্রেপ্তার
“পুরো স্বর্ণসহ তাকে আটক করা হয়েছে।”
লক্ষ্মীপুরে চারটি স্বর্ণের দোকান থেকে গ্রাহককে দেখানোর কথা বলে নেওয়া প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকারগুলোও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রণজিত পালকে আটকের বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন ও জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার জানিয়েছেন।
এর আগে সোমবার রাতে ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
আটক রণজিত পাল লক্ষ্মীপুর বাজারের স্বর্ণকার সড়কের ‘পাল শিল্পালয়ের’ স্বত্বাধিকারী। তিনি পরিবার নিয়ে শহরের শাঁখারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রণজিত প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এ বাজারে ব্যবসা করছেন। তার সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক ভাল ছিল। বাজারের এক ব্যবসায়ী অন্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গহনা এনে গ্রাহকদের দেখায় এবং বিক্রিও করেন। রণজিত সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চারটি দোকান থেকে গ্রাহককে দেখানোর কথা বলে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণের গয়না আনেন। কিন্তু সেগুলো আর ফেরত দেননি।
তার দোকান খোলা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ভাড়া বাসাতেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়রা জানতে পারেন, তিনি সপরিবারে পালিয়ে গেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন তমা শিল্পালয়ের পলাশ কুরী, বণিক শিল্পালয়ের সাগর বণিক, পুনম শিল্পালয়ের ঝুটন কুরী ও শিবানী শিল্পালয়ের অসীম কর।
পলাশ কুরী বলেন, “স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রণজিতের বিরুদ্ধে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। পুলিশ তাকে আটক করেছে।”
জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, “বিভিন্ন ব্যবসায়ী থেকে ২২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে পলাতক ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে আটক করেছে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ। পুরো স্বর্ণসহ তাকে আটক করা হয়েছে। এজন্য আমি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর আনা হচ্ছে।
