যমুনার চরাঞ্চলে এক সেতুর অভাবে ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
সুজুনি খালটির অবস্থান সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ি গ্রামে।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলে একটি সেতুর অভাবে প্রায় ছয় দশক ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই জেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।
খালের নাম সুজুনি খাল। এটির অবস্থান সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ি গ্রামে।
স্থানীয়রা বলেন, কাজিপুরের মনসুরনগর ও চরগিরিশ এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ও সাতপোয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, হাটবাজার ও সরকারি দপ্তরে যোগাযোগের একমাত্র পথ এই খাল পারাপার। কিন্তু দীর্ঘ ৬০ বছরেও এখানে সেতু নির্মিত না হওয়ায় বিশেষ করে খালের পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা বর্ষা ও শুষ্ক- দুই মৌসুমেই অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
বর্ষাকালে খালের ওপর ভরসা কেবল খেয়া নৌকা। তবে বিকাল গড়ালেই খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। তখন জরুরি প্রয়োজনে কিংবা কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে পড়তে হয় চরম বিপাকে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকালে নদীর তলদেশ দিয়ে চলাচলের উপযুক্ত সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য ও যানবাহন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, “বর্ষায় খালে পারাপারে সেতু দরকার, আবার শুষ্ক মৌসুমে দুপাশের সংযোগ সড়কের সংস্কার দরকার। পানি থাকুক আর না থাকুক, আমাদের কষ্ট সারা বছরই এক।”
খালের পূর্ব তীরে একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি ডিগ্রি কলেজ থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীকে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।
চরগিরিশের এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম বলেন, “বন্যার সময় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় সময়মতো ক্লাসে আসতে পারে না তারা।”
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিয়া খাতুন বলে, নৌকা ধরতে না পারলে প্রায়ই তাদের ক্লাস মিস হয়। বর্ষার দিনে এই খালের ভোগান্তি এড়াতে তারা একটি স্থায়ী সেতু চায়।
মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম দুলাল ও সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, খালের দুই তীরের কৃষকদের ফসল পরিবহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষকরা সহজেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শস্য পাঠাতে পারবেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, খালের অবস্থান কাজিপুর সীমানায় পড়ায় সরিষাবাড়ী উপজেলার মাধ্যমে সেতু নির্মাণের আইনগত সুযোগ নেই।
তবে কাজিপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মুনসুর আহমেদ বলেন, সুজুনি খালের ওপর সেতু নির্মাণের একটি সম্ভাব্যতা পরিকল্পনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রজেক্ট পাস হলেই কাজ শুরু হবে।
