ময়মনসিংহে সড়কে মৃত্যু ৭: একই পরিবারের চারজনসহ ৬ জনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ রানাগাছা
একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত অটোরিকশার সাত যাত্রীর মধ্যে ছয়জনই জামালপুর সদরের বাসিন্দা। নিহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য ও বাকি দুইজন একই ইউনিয়নের অন্য গ্রামের বাসিন্দা।
একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়ন জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার বেলা সোয়া ১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
নিহতরা হলেন- ওই ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫), মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল, একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী (৩৪) এবং একই উপজেলার নান্দিনার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৪৮)।
স্বজনরা জানান, মোফাজ্জল হোসেন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় থাকতেন। মা, মেয়ে ও নাতিকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যেতে বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নান্দিনা বাজার থেকে অটোরিকশায় ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হন তারা। সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুর যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে যায় তাদের সেই যাত্রা।
মোফাজ্জল হোসেনের চাচা হাবিবুর রহমান বলেন, “লেবু দীর্ঘদিন থেকে গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করত। তার শাশুড়ি, ভাতিজি ও নাতিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছিলেন। মেয়েটা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
স্থানীয় সোহেল রানা বলেন, “এই রাজিব পরিবহনের বাসের জন্য প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। আজ একই পরিবারের চারজন মারা গেছেন। আর কত মানুষের প্রাণ ঝরলে প্রশাসনের টনক নড়বে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, রাজীব পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। তার দাবি, আকুয়া বাইপাসে প্রায়ই অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা রোধে এলাকায় স্পিডব্রেকার স্থাপনের দাবিও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে পাশ কাটিয়ে যেতে না পারায় সংঘর্ষটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
