Published : 03 Apr 2026, 03:39 PM
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে ভর্তি আট মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে শিশুটি মারা গেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম।
মৃত আফরান সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের ছেলে। ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে শিশুটির অবস্থা শঙ্কটাপন্ন ছিল বলে দাবি চিকিৎসকের।
শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, ১০ দিন আগে বাচ্চার ঠান্ডা জ্বর হয়। পরে শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা যায়। সেদিনি বাচ্চাকে কুষ্টিয়ার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই চিকিৎসক বাচ্চাকে দেখে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
আল আমিনের অভিযোগ, “বৃহস্পতিবার বাচ্চার অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে। কিন্তু হাসপাতালে কোনো বড় ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি এদিন ভোরে বাচ্চার অবস্থা খুব খারাপ হলে চিকিৎসক এবং নার্সদের ডেকেও পাইনি।
“কোন নার্সই আমার ডাকে সাড়া দেয়নি। অবহেলায় আমার বাচ্চাটি চোখের সামনে মারা গেল, কিছুই করতে পারিনি। পরে লাশ নিয়ে বাড়ি চলে আসি।”
হাসপাতালের উপপরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোরে হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির দিন থেকেই শিশুর অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা যাননি। তবুও শিশুটির প্রযোজনীয় চিকিৎসা চলছিল।
তিনি বলেন, “হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের আমরা কেবল মাত্র সন্দেহমূলক রোগী হিসেবেই দেখে চিকিৎসা দিচ্ছি। প্রকৃত অর্থে নমুনা পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের কাজটি সময় সাপেক্ষ হওয়ায় রোগী শনাক্তের বিষয়ে আমাদের অনুমান নির্ভরই থাকতে হচ্ছে।”
কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল বলেন, এদিন দুপুর পর্যন্ত সদর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডা জ্বর-সর্দি ও কাশি নিয়ে ভর্তি আছে ২৮৪ শিশু। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষাসহ হাম রোগীর সংখ্যা ১২; যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৭ জন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮০ জন।
নমুনা পরীক্ষা করে হাম রোগী শনাক্তের বিষয়টি এখন পর্যন্ত একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।