‘ব্ল্যাকহোল ক্লাবে’ যোগ দিতে না চাওয়ায় গুলি, গ্রেপ্তার ২
বগুড়ার শেরপুর এলাকায় ফুড ভিলেজ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ‘কিশোর গ্যাংয়ে’ যোগ দিতে না চাওয়ায় ভয় দেখানো ও গুলি করার অভিযোগ ওঠেছে।
এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া এলাকার সুলতান ও পারভেজ।
পুলিশ সুপার বলেন, সুলতান ও পারভেজ ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি ‘কিশোর গ্যাং’ তৈরি করেন। স্থানীয় কিশোরদের এই দলে যোগ দিতে ভয় দেখানো হত। কেউ যোগ দিতে না চাইলে গুলি করার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ২৫ অগাস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল যাবের নিরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে সুলতান ও পারভেজ গুলি করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরদিন রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে গুলি চালানো হয়। এসব ঘটনায় মান্দা থানায় মামলা হয়েছে।
এরপর আসামিদের ধরতে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মান্দা ও রানীনগর থানার সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে, সুলতান ও পারভেজ ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপর পার্শ্ববর্তী জেলার পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়।
সোমবার রাতে বগুড়ার শেরপুর এলাকায় ফুড ভিলেজ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্র থাকার কথা জানান। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, সুলতানের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল, একটি ডেগার, একটি সুইচগিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু ও একটি ক্ষুর উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় হত্যা, সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারিসহ চারটি মামলা রয়েছে। একটি হত্যা মামলায় তারা দুজনই আট মাস কারাগারে ছিলেন।
মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁয় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
