Published : 14 Feb 2026, 12:05 PM
সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দির সাথে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। যা সিলেট বিভাগে ১৯টি আসনের সর্বাধিক ব্যবধান।
পোস্টাল ভোটসহ তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭। তার নিকটতম প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট । অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯১১।
হাজী মুজিবুরের এমন জয় নিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জবাসী নৌকার দূর্গ ভেঙে ধানের শীষের গণজোয়ার উপহার দিয়েছে তারেক রহমানকে। আর মনে করেন তারেক রহমানও তাদের মূল্যায়ন করবেন।
শ্রীমঙ্গল রাজঘাট চা বাগানের বাসিন্দা কানাই গোয়ালা বলেন, “চা বাগানসহ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মানুষ যেভাবে ধানের শীষকে মূল্যায়ন করেছে আশা করি বিএনপি কেন্দ্রীয় কমান্ড আমাদের এই আসনকেও মূল্যায়ন করবে।”
শ্রীমঙ্গল রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা ও রোটারি ক্লাব অব শ্রীমঙ্গলের সভাপতি মশিউর রহমান রিপন বলেন, “হাজী মুজিবুর রহমানের এই জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সরলমনা, সৎ ও দুর্নীতি-চাঁদাবাজীকে পশ্রয় না দেয়া একজন মানুষ।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রক্তচোখ উপেক্ষা করে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী ছিলেন মাঠে ময়দানে। এর জন্য তাকে বহুবার জেলে যেতে হয়েছে, দী্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়েছে।
“তাছাড়া তিনি একজন কর্মীবান্ধব নেতা। ওই সময়ে জেলজুলূম ও অত্যাচারের শিকার সব নেতাকর্মীর পাশে ছিলেন তিনি।”
জয়ের পর হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “এ বিজয় এলাকার মানুষের। এলাকার মানুষের ভালোবাসার জন্য তিনি তাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবেন।
তিনি বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনেও প্রথম দেড়ঘন্টার ভোট পেয়েছিলাম ৯৩ হাজার ২৯৫ ভোট। পরে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়ে জালভোট মেরে বিজয়ী হন মো. আব্দুস শহীদ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তখনো আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতাম।”
সদ্য বিজয়ী এই সংসদ সদস্য বলেন, “এ এলাকার মানুষ যেভাবে আমাকে ভালোবেসেছে, আমার কাজ হলো এর প্রতিদান দেওয়া। জনগণ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি যেন এই দায়িত্ব সম্মানের সঙ্গে পালন করতে পারি আল্লাহ কাছে এই প্রার্থনা।”