খাগড়াছড়িতে সহিংসতা: ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল ও আর্থিক সহায়তা প্রদান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রিকুইজিশনের ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
খাগড়াছড়ি সদরে মারমা কিশোরীকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ ওঠার পর সংঘটিত সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার দুপুরে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে এসব বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।
২৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকা ও স্বনির্ভর বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ দোকান মালিককে ৩০ কেজি করে চাল ও সাড়ে সাত হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, “১৪৪ ধারার মধ্যেও জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। আপনারা সাংবাদিকরা সেটাই লিখেছেন। আমরাও চাওয়া জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক।
“২৯ সেপ্টেম্বর জুম্ম ছাত্র-জনতা অবরোধ স্থগিত করেছে। তবে আমরা আশা করব মানুষের জীবন যাপনের সুবিধার্থে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রিকুইজিশনে ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।”
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য এবং সদর থানার ওসি মো. আব্দুল বাতেন মৃধা উপস্থিত ছিলেন।
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলায় মারমা জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছিল পার্বত্য এ জেলায়।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ শয়ন শীল নামের ১৯ বছর বয়সি এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’।
এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টায় ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এমন উত্তেজনার মধ্যে গুইমারায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতা হয়, সেখানে গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। এ সময় স্বনির্ভর ও আশপাশের বেশকিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
মারমা কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ‘ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি’ বলে জানিয়েছেন পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক।
