Published : 27 Apr 2026, 05:13 PM
নেত্রকোণা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর ও তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে।
শুক্রবার মধ্যরাতে মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে ১২৩ জনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম।
মামলায় পূর্বধলা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি ও হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিযোগ করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবুকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
সব মিলিয়ে মামলায় ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সবাই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে একজন এজাহারের আসামী আর বাকিরা সন্দেহভাজন। তাদেরকে আজ আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
‘পরিকল্পিত হামলা’, সংবাদ সম্মেলনে দাবি
এদিকে শুক্রবার রাত সোয়া ৯ টার দিকে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মাছুম মোস্তফা।
তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিং স্টেশনে তার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় আধা ঘণ্টা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা ছিল সুপরিকল্পিত ঘটনা।
তিনি বলেন, “আমি বেশ কিছু দিন ধরেই শুনে আসছিলাম আমাকে পূর্বধলায় ঢুকতে দিবে না। এরই অংশ ছিল বিএনপির এই হামলা, ভাংচুর ও অবরুদ্ধ করে রাখা। ”
সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “শুক্রবার বিকালে একটি অনুষ্ঠান থেকে ফিরে গাড়ি নিয়ে উপজেলার আৎকাপাড়ায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে পৌঁছাই। ফিলিং স্টেশনের মালিকের সাথে কথা বলার সময় নামাজের সময় হয়। তখন ফিলিং স্টেশনের পাশেই নামাজ পড়তে মসজিদে যাই।
“এ সময় মসজিদ থেকে শুনতে পাই গাড়ি ভাঙচুরের শব্দ। বিএনপির সন্ত্রাসী হামলাকারীরা পরে মসজিদে গিয়ে চড়াও হয়। সেখানে মুসুল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে রেখে আমাকে রক্ষা করেন।”
আধাঘণ্টা পর পুলিশ, প্রশাসনের লোকজন আসেন জানিয়ে তিনি বলেন, “স্থানীয় বিএনপির নেতা বাবুল আলম তালুকদারও আসেন। পরে বাবুল আলম তালুকদারসহ প্রশাসনের নিরাপত্তা আশ্বাসে তাদের সহযোগিতায় সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা থেকে বের হয়ে আসি। “
তিনি বলেন, ঘটনার আগে উপজেলা সদরে বিএনপির মিছিল হয়। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক শ্লোগান দেয়া হয়। ওই মিছিল থেকেই লোকজন ফিলিং স্টেশনে এসে হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মাহফুজুল হক খান, সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীন।
তবে সংসদ সদস্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু তাহের তালুকদার।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, “সংসদ সদস্যের গাড়ি যেখানে তেল আনতে গেছে সেখানে দুই থেকে আড়াইশ মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন ছিল। হয়ত সেখানে কোনো কারণে বিশৃঙ্খলা হয়েছে এবং তারপর হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
“এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত না। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি
সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাছুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
২৪ এপ্রিল দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সারাদেশে এখন একটি সংকট চলছে। এ সময়ে যারা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তারা দেশের স্থিতিশীলতা চায় না।”
তিনি আরও বলেন, “একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, দেশে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।”
তিনি বলেন, “আমি অবিলম্বে এই বর্বরোচিত ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।”
এছাড়া মাসুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বদরুল আমিন।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, “এ ঘটনায় আমরা পুরনো ফ্যাসিবাদের গন্ধ পাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এ ঘটনার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।”
জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ
সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার গাড়ি ভাঙচুর ও তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় নেত্রকোণা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার দুপুরে শহরের মোক্তারপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রেসক্লাব চত্বরে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. বদরুল আমিন , নায়েবে আমীর মাহবুবুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর আবুল হোসেন তালুকদারসহ অন্যরা।