Published : 16 Mar 2026, 09:15 PM
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীধাম ওড়াকান্দির স্নানোৎসব ও মহা-বারুণীর মেলা শুরু হয়েছে, এতে ভিড় করেছেন মতুয়া ভক্তরা।
মতুয়াবাদের প্রবর্তক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম অবির্ভাব তিথি উপলক্ষে সোমবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট থেকে এ উৎসব শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি ও শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ষষ্ঠ পুরুষ শ্রী অমিতাভ ঠাকুর।
স্নানোৎসব চলবে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত। স্নানোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনের মহা-বারুণীর মেলা চলবে বুধবার রাত পর্যন্ত।
এ মেলায় দেশজ, কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্প, খেলনা সহ খাদ্য ও মিষ্টির দোকান বসেছে।
স্নানোৎসব ও মেলা উপলক্ষে ওড়াকান্দির ঠাকুর বাড়ির আশপাশের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুর পরিবারের অন্যতম সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মতুয়া আচার্য সুব্রত ঠাকুর হিল্টু।
তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশের ১৫ লক্ষাধিক মানুষ ওড়াকান্দির বারুনী মেলা ও স্নানোৎসবে যোগ দিতে আসবেন। আমরা ষষ্ঠ পুরুষ হিসেবে এ উৎসব উদযাপন করে চলেছি। এতে আমরা বিশ্বের মানবজাতির শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। এবারও সেটার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
সোমবার সকালেই সারা দেশ মতুয়াভক্তরা লাল নিশান উড়িয়ে ঢাক, ঢোল বাজিয়ে চারিদিক হরিবোল ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে ওড়াকান্দির ঠাকুর বাড়িতে আসেন। তারপর হরি মন্দিরে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন ও মাতম শেষে অংশ নেন স্নানে।
ইতিমধ্যে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ওড়াকান্দি পরিদর্শন করেছেন।
রোববার ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি পরিদর্শন করে নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকি করেন। নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি হবেনা বলে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান।
স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অমিতাভ ঠাকুর বলেন,“এ উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের বসবাস ও প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি মতুয়া ঘরানার ছয় শতাধিক স্বেচ্ছাসবক ভক্তদের থাকা ও প্রসাদ বিতরণ করবেন। পাশাপাশি তারা ঠাকুর বাড়িতে পূণ্যার্থী প্রবেশ ও বের হওয়া সার্বিক বিষটি নিরাপদে তদারকি করবেন।
“এছাড়া ভক্তদের সেবায় একাধিক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা রয়েছে। আশা করছি সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।”
পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, মতুয়া ভক্তদের অনুষ্ঠানটি যাতে শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে পুলিশ বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসি ক্যামেরাসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ- উজ- জামান বলেন, “আয়োজক কমিটির সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার সভা করেছে।সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে লাখ লাখ মতুয়া ভক্তের স্নানোৎসবটি সম্পন্ন করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।”
উল্লেখ্য, নিপীড়িত ও অবহেলিত নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের ত্রাণ কর্তা হিসাবে ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে কাশিয়ানী উপজেলার সাফলিডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হরিচাঁদ ঠাকুর।
পাশ্ববর্তী ওড়াকান্দি গ্রাম তার সাধনার স্থল হয়ে ওঠে। সেখান থেকে ঠাকুর প্রচার করেন মতুয়াবাদ। তার অনুসারীদের বলা হয় মতুয়া। ৬৬ বছর বয়সে জন্মের একই দিনে তার তিরোধান হয়।
পরবর্তীতে তাঁর ছেলে শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর ওড়াকান্দিতে হরিচাঁদ ঠাকুরের অবির্ভাব তিথি ঘিরে স্নানোৎসব ও মহাবারুণীর মেলা প্রচলন করেন। এ স্নানোৎসব ১৫০ বছরের ধরে চলে আসছে।
২০২১ সালের ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওড়াকান্দির ঠাকুর বাড়ি সফরে আসেন। এদিন তিনি হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজাঅর্চনা শেষে ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।