১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাচ্চা হাতিকে সুরক্ষা দিতে সড়কে ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মা, আতশবাজি ফাটিয়ে পাঠানো হয় বনে

গাড়ি চলাচলের শব্দকে থ্রেট মনে করে বাচ্চা হাতিকে সুরক্ষা দিতে মা হাতিটি সড়কে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয় বলে ভাষ্য রাঙামাটি বন বিভাগের।

রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Aug 2026, 10:48 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

রাঙামাটির একটি সড়কে হঠাৎ কয়েকটি হাতি নেমে এসে সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে। এতে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আতাশবাজি ফাটিয়ে হাতিগুলোকে বনে পাঠানো হয়।

একটি বাচ্চা হাতিকে সুরক্ষা দিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে ভাষ্য বন বিভাগের।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত হাতিগুলো আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়কের আগরবাগান এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল বলে জানান কাপ্তাই রেঞ্জের সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন।

বন বিভাগ জানান, ঘটনার দিন বিকালে হঠাৎ করে কয়েকটি হাতি সড়কে নেমে আসে। এ সময় সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা কাপ্তাই বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে বন কর্মকর্তাসহ এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। হাতিগুলো সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে।

সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, “বৃহস্পতিবারে চিফ কনজারভেটর অব ফরেস্টস (সিসিএফ) স্যারের কাপ্তাইয়ে একটা প্রোগ্রাম ছিল। প্রোগ্রামে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে ডিএফ স্যারও যাচ্ছিলেন। তিনিও হাতির এ ঘটনায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আমি নিজে ছিলাম, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ইআরটি সদস্যরা সেখানে ছিলেন।”

তিনি বলেন, হাতির পালে একটি এক বছরের বাচ্চা ও তার মা-বাবা এবং একটি ইয়াং জেনারেশনের হাতি ছিল। হাতিগুলো ঘুরে ঘুরে খাবার খেয়ে তারা সামনের দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। এ সময় রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করার শব্দকে থ্রেট মনে করে বাচ্চা হাতিকে সুরক্ষা দিতে মা হাতিটি সড়কে দাঁড়িয়ে পাহারা দিয়েছিল। 

হাতির ক্ষেত্র হচ্ছে, বাচ্চা যেদিকে যায় মা হাতিও সেদিকে যায়। বাচ্চা যতক্ষণ জায়গা থেকে না নড়ে তারা সেখান থেকে নড়তে চায় না। তারা বাচ্চা হাতিদের সবসময় ব্যাকআপ দেয়।

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান বলেন, ইআরটি সদস্য এবং বন বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাতিগুলোকে প্রথম দফাই বনে ফিরালেও পরবর্তীতে তারা আবার রাস্তায় চলে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করে।

পরে আতশবাজি ফোটানো হলে হাতিগুলো নিজে নিজে রাস্তা থেকে চলে যায়, আর যানচলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।