Published : 30 Sep 2025, 08:41 PM
সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনারের একটি নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে থাকতে পারবে না বলে নির্দেশনায় বলেছেন তিনি।
তবে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা মধ্যে পুলিশ কমিশনার বলেছেন, নির্দেশনায় ভাষাগত ত্রুটি রয়েছে; যা সংশোধন করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কমিশনারের অফিস আদেশে দেখা গেছে, “‘ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে এসএমপির আওতাধীন এলাকায় কোনো আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের লোকজন প্রকাশ্যে যাতে এলাকায় না থাকতে পারে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এসি, এডিসি ও ডিসিরা এ বিষয়ে তদারকি করবেন।”
মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, “এই নির্দেশনায় ভাষাগত ত্রুটি হয়েছে। যারা এটি লিখেছেন তারা এই ভুল করেছেন। তবে নিদের্শনাটি সংশোধন করা হয়েছে।”
নগর পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন পুলিশ কমিশনার। বৈঠকে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।
পরে রোববার পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী স্বাক্ষরিত নির্দেশনা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।
সকাল থেকে নির্দেশনার একটি অংশ ফেইসবুকে ছড়ায়; যা নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।
পুলিশ কমিশনারের এমন নির্দেশনার সমালোচনা করে সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেট জেলা সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, “নিজের বাসা বাড়িতে থাকার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।
“কেউ যদি আসামি হয়, আর তার বিরুদ্ধে যদি ওয়ারেন্ট থাকে, তাহলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। অন্যথায় কাউকে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরায় বাধা দেওয়া আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
১০ সেপ্টেম্বর সিলেটের পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। এর আগে ২৫ অগাস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপ-সচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।