Published : 08 Feb 2025, 08:36 PM
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ’ ভেঙে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসদরের চৌরাস্তায় স্বাধীনতা চত্বরে নৌকায় বসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল যুক্ত স্মৃতিস্তম্ভটি একটি এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে আংশিক ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকে উল্লাস করতে দেখা যায়।
ভাঙচুরের খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ বিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধরা ভাঙচুর চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে চলে যায়।
এর আগে গত বছরের ৫ অগাস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভটি আংশিক ভাঙচুর করে ছাত্র-জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন ফরিদপুর-১ সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুর রহমান শহরটির সৌন্দর্য বর্ধন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণে পৌরসদরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় স্বাধীনতা স্তম্ভটি নির্মাণের প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় সরকার সরকারের অর্থায়নে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ" নামে এ স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়।
ভাঙচুর নেতৃত্ব দেওয়া জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী মো. জাকারিয়া বলেন, “এলাকার মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অনলাইনে ভাষণ দেওয়ার দুঃসাহসের প্রতিবাদে এই ভাঙচুর করা হয়েছে।”
ভাঙচুরে অংশগ্রহণ করা একাধিক ব্যক্তি বলেন, ভাঙচুরের পর দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে এখানে একটি সৌন্দর্য বর্ধনকারী স্থাপনা নির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।
ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া থানার উপপরিদর্শক শরীফ আব্দুর রশিদ বলেন, “ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থাপনাটি ভাঙচুর নিবৃত করার চেষ্টা করি। সেখানে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধদের বাধা দিতে গেলে তারা বলেন, শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া কিছুই আমরা রাখবো না। সেখানে জাকারিয়া নামে এক ছাত্রদল নেতাকে বিষয়টি বললে তারা উপরে লাগানো টাইলসগুলো ভেঙে চলে যায়।”

বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম রসুল বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দেশে কোনো স্থাপনা ভাঙচুর না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিষয়টি অবগত করলে ওসি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বোয়ালমারীর নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভাঙচুরের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে কথা বলে সেখানে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ভালো কিছু করা হবে।”