১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ, সিভিল সার্জনকে তাৎক্ষণিক বদলি

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাইমচর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ, সিভিল সার্জনকে তাৎক্ষণিক বদলি
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা সফরে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Aug 2026, 12:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

চাঁদপুরে ঝটিকা সফরে এসে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

জেলার স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দীনকে ‘তাৎক্ষণিক বদলির’ নির্দেশনা দেন তিনি।

রোববার সকালে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিকভাবে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। 

এ সময় সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা দুর্বলতা সামনে আসে। পরে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং দ্বায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুর আলম দীনকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজের’ আদেশ দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। এই অব্যবস্থাপনার জন্য যারা দায়ী, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন কঠোর অবস্থানে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের দিকে কোনো নজর দেওয়া হয়নি। ফলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজ করছে। 

চিকিৎসক মোহাম্মদ নুর আলম দীন।

চিকিৎসক মোহাম্মদ নুর আলম দীন।

ওই সময়ে নানাভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কিনে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে ‘হেলথ হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। 

এসব হেলথ হাবে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য দূরের শহরে ছুটে যেতে বাধ্য না হন, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।