১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘পাহাড়কে অন্ধকারে রেখে দেশে রংধনু জাতি গঠিত হতে পারে না’

রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় শিশির চাকমা এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Aug 2026, 06:39 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা।

তিনি বলেছেন, “বিএনপি সরকার শুরুতে বলেছে, তারা রংধনু জাতি গঠন করবে। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে কষ্ট, বৈষম্য ও অন্ধকারে মধ্যে রেখে বাংলাদেশে কোনো অবস্থাতে রংধনু জাতি গঠিত হতে পারে না।” 

রোববার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির চাকমা বলেন, “তিন পার্বত্য জেলায় চারজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে তিনজন আদিবাসী। কিন্তু সংবিধান সংস্কার কমিটিতে তিনজনের কাউকে রাখা হয়নি। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যাপারে সরকারের অনীহা রয়েছে।

“এমন পরিস্থিতি অনন্তকাল চলতে পারে না। এটি সরকার ও দেশের জনগণের জন্য যেমন ভালো নয়, তেমনি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্যও কল্যাণকর নয়। তাই সরকার যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে ভিত্তি করে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো রূপরেখা ঘোষণা না করে, তবে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে সৃষ্ট ক্ষত কখনোই সারবে না।”

শিশির চাকমা বলেন, “পার্বত্য চুক্তি বাতিল করতে অনেকে দাবি জানাচ্ছেন। আমরা সেই ভয় করি না। পার্বত্য চুক্তি যদি বাতিল হয় তার চাইতেও আরেকটি শক্তিশালী পার্বত্য চুক্তি সরকারকে করতে হবে। পাহাড়ের মানুষের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা অন্য কোনো কার্ডের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই।” 

তিনি বলেন, “আমরা এখানে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। সরকারের ভেতরে থেকেই যারা পার্বত্য অঞ্চলে আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তাদের শাসনের অবসান আমরা অবশ্যই চাই।”

এ সময় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা বলেন, “তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা আদিবাসী দিবস পালন করছি। কিন্তু রাষ্ট্র কখনো আমাদের স্বীকার করছে না। আমাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখছে। আদিবাসী বললে আমাদের বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে। আমরা বর্তমান সরকারের ‘রেইনবো নেশনের’ অংশীদার হতে চাই। এই বিষয়ে বিএনপি সরকারের আন্তরিকতা প্রয়োজন রয়েছে।” 

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি থোয়াই অং মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ফদাং তাং রান্দাল, অ্যাডভোকেট জুয়েল দেওয়ান, আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ইন্টুমনি তালুকদার, রাঙামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য দীপন চাকমা ও গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জয়তী চাকমা ইনু।

আলোচনা সভার আগে বেলুন উড়িয়ে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। 

একটি বর্ণিল শোভাযাত্রা রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ হতে শুরু হয়ে জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে তাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।