Published : 20 Jan 2026, 07:53 PM
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটেছে। এতে অন্তত দুই হাজার ২০০ রোহিঙ্গা তাদের মথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন। পুড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়।
সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান এপিবিএন-৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ।
শীতের রাতে চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় সেলিম উল্লাহর। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনোরকমে বেরিয়ে আসতে পারলেও ফিরে তাকানোর সুযোগ পাননি। চোখের সামনে জ্বলতে থাকে বাঁশ পলিথিনের ঘর, পুড়ে ছাই হয়ে যায় জীবনের শেষ সম্বল।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সেলিম উল্লাহর মতো শত শত পরিবারের দুই হাজারের বেশি মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তবে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শরণার্থী কমিশন থেকে পাঠানো এক তথ্যে জানানো হয়, ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে রাতে রান্নাঘরে চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এতে চুলার ওপর রাখা পাত্র শুকিয়ে আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী ডি-১, ২ ও ৩ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে যায়। এতে ৪৮১টি শেল্টারসহ ১০টি লার্নিং সেন্টার, একটি মকতব ও দুটি মসজিদ পুড়ে গেছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, UNHCR ও অন্যান্য এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অস্থায়ী আশ্রয়, জরুরি খাদ্য ও সহায়তা দেওয়া শুরু করা হয়েছে।
আগুনে ঘর হারানোদের জন্য অস্থায়ী ছাউনিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং খাদ্য নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ডি-৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, “রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে উঠে দেখি চারদিকে আগুন। কোনো রকম প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই, সব পুড়ে গেছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, “আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব কিছুই বুঝতে পারছি না।”
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এপিবিএন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।