Published : 29 Apr 2026, 05:44 PM
কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানায় বিয়ে করার কথা দিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়নাল আবেদীন আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন।
দণ্ডিত জনি ওরফে রাজিম (২৮) ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে।
সাজার পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকার জরিমানা দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিররণে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে জনি নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি রাতে ছাত্রীর বাড়িতে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন জনি। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্যবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
বিষয়টি পারিবারিক ভাবে জানাজানি হলে জনিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় জনি নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে পদোন্নতির কথা বলে মেয়েটির পরিবারের কাছে ঘুষ বাবদ ৮ লাখ টাকা দাবি করে।
মেয়েটির বাবা ওই টাকা দেওয়ার পর জনি তাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে সে দাবি করে, বাদিনীর গর্ভে থাকা সন্তান তার নয় এবং মেয়েটিকে চরিত্রহীন হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ২ মার্চ তারিখে মেয়েটি একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। পরে ওই বছরের ২২ জুন মেয়েটি কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশী মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়। ভেড়ামারা থানার এসআই মিন্টু মিয়া ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, আসামি জনি ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন।